ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জামালপুর জেলার বিভিন্ন খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুতির ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। জেলার ছোট-বড় অসংখ্য খামারি কয়েক মাস ধরে গরু মোটাতাজাকরণে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত হওয়ায় খামারিদের মধ্যে স্বস্তি থাকলেও, পশুখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের লাভ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুরে প্রায় ১২ হাজার খামারির কাছে এবারের ঈদকে কেন্দ্র করে প্রস্তুত রয়েছে মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫টি গবাদি পশু। অথচ স্থানীয় চাহিদা প্রায় ৮২ হাজারের মতো। ফলে অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার পশু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
শনিবার (১৬ মে) জেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা যায়, খামারিরা দেশীয় ঘাস, খড়, ভুসি, ভুট্টা ও প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়ে গরু লালন-পালন করছেন। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করে কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন। উন্নত যত্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য ব্যবহারের কারণে গরুগুলো আকারে ও মানে বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ইসলামপুর উপজেলার গুঠাইল এলাকার খামারি শান্ত ফারাজি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও নিরাপদ খাবার দিয়ে গরু বড় করেছেন তিনি। কোনো ধরনের ভেজাল বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এবার হাটে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।
অন্যদিকে খামারি লাভলু শেখ বলেন, পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি জানান। এবার কেবল হাটেই নয়, অনলাইনেও কোরবানির পশু বিক্রির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক খামারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরুর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে ক্রেতাদের আগ্রহ তৈরি করছেন। এতে আগাম বুকিংও মিলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘ফিরোজা এগ্রো ফার্ম’ নামে একটি অনলাইন পেইজের মাধ্যমে পশু বিক্রি করছেন খামারি মো. ফারুক। তিনি জানান, গরুর ওজন ও মূল্য উল্লেখ করে অনলাইনে পোস্ট দেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা যোগাযোগ করছেন। কেউ আগাম বুকিং দিচ্ছেন, আবার কেউ সরাসরি খামারে এসে পশু কিনে নিচ্ছেন। জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ টি এম হাবিবুর রহমান বলেন, ছোট খামারিরাও এখন বড় আকারের গরু পালন করে লাভবান হচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং জেলার বিভিন্ন পশুর হাটও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন