ভোট-পরবর্তী সহিংসতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে সশরীরে হাজির হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আইনজীবীর কালো গাউন পরে আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। জানা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা একটি মামলায় নিজেই আইনজীবী হিসেবে সওয়াল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তিনি জানান, আইনজীবী হিসেবে কলকাতা হাইকোর্টে এটিই তার প্রথম উপস্থিতি।
শুনানিতে সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যে চলমান সহিংসতায় নারী, শিশু ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষও নিরাপদ নন। তিনি আদালতে ১০ জন নিহত ব্যক্তির একটি তালিকা জমা দেন এবং বলেন, নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই হিন্দু সম্প্রদায়ের। এছাড়া এক তফশিলি জাতিভুক্ত বৃদ্ধা নারীর ওপর হামলা ও উচ্ছেদের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। মমতার অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কিশোরীদের ধর্ষণের হুমকির মতো ঘটনাও ঘটছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ কার্যকর ভূমিকা পালন করছে কি না। আদালতে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়।” সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের নিন্দা জানিয়ে বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এক বার্তায় দাবি করেছে, আদালতে মমতার উপস্থিতি প্রমাণ করে যে সংকটের সময় তিনি বাংলার মানুষের পাশে আছেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি এই সহিংসতাকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল বলে উল্লেখ করেছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, হামলা ও বোমাবাজির খবর সামনে আসছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ হত্যার ঘটনাকে ঘিরেও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এখন হাইকোর্টের পরবর্তী নির্দেশনার দিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন