যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে পরে তিনি জানান, ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলায় পরিকল্পিত হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য নতুন সংঘাতকে ঘিরে ইরান ইতোমধ্যে প্রস্তুতি জোরদার করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আবার হামলা হলে তারা আঞ্চলিক চাপ বাড়ানোসহ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজির মতে, প্রথম দফার সংঘাতে ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল, তবে এবার তারা স্বল্পমেয়াদি কিন্তু বেশি তীব্র সংঘাতের আশঙ্কা করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সংঘাতে ইরান প্রতিদিন বহু সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে, যার লক্ষ্য হতে পারে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা। এতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের তেল অবকাঠামো বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত নিয়ে ইরানের কিছু ঘনিষ্ঠ মহলের কড়া বক্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। যদিও এসব মন্তব্যকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের অনেকে, তবু এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের গবেষক আলি আলফোনেহ বলেন, ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কাই এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে সংযমের একটি বড় কারণ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান হরমুজ প্রণালি ছাড়াও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। তবে এই উত্তেজনা বাস্তবে কতদূর গড়াবে, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থানের ওপর।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন