ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যখন ফ্রি-কিক নেন, আমরা দেখছি বলের বাঁক ও গোলপোস্টে। কিন্তু মাঠের বাইরে সেন্সর, ক্যামেরা ও এআই প্রতিটি শটের গতিপথ, বাতাসের বাধা এবং খেলোয়াড়ের পেশির কম্পন পরিমাপ করছে। ট্যুর ডি ফ্রান্সে সাইক্লিস্টদের ক্ষেত্রেও একই বিষয়—প্রদর্শিত হচ্ছে শক্তি খরচ, চাকার ঘূর্ণন এবং অন্যান্য ফিজিওলজিক্যাল ডেটা।
আধুনিক খেলাধুলা শুধু শারীরিক দক্ষতার নয়, বরং সংখ্যা ও অ্যালগরিদমের জটিল সমীকরণে রূপ নিয়েছে। গায়ে লাগানো সেন্সর খেলোয়াড়ের শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃৎস্পন্দন এবং ক্লান্তি পর্যবেক্ষণ করছে। ক্যামেরা প্রতি সেকেন্ডে ৫০টি ছবি তুলে প্রতিটি নড়াচড়া ট্র্যাক করছে। ফ্রান্সের ‘সিস্পোর্টস’-এর পরিচালক ফ্রাঙ্ক ইমবাখ জানিয়েছেন, এই ডেটা ব্যবহার করে খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স উন্নত ও চোটের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
ব্রিটিশ স্টার্টআপ ‘স্পোর্টস ডায়নামিকস’ খেলোয়াড়দের শক্তি ও প্রতিপক্ষের দুর্বলতা বিশ্লেষণ করছে। স্পোর্টস অ্যানালিটিকসের বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দশকে ইউরোপে এই বাজার কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে এবং ২০৩২ সালে প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন ডলার হবে।
এই ডেটা কেবল মাঠের কৌশলেই সীমাবদ্ধ নয়। টিভি সম্প্রচার, অনলাইন বেটিং ও ফ্যান্টাসি লিগেও ডেটা ব্যবহৃত হচ্ছে। জার্মানি ভিত্তিক ‘ডেটা স্পোর্টস গ্রুপ’ লাইভ ডেটা সরবরাহ করছে গণমাধ্যম ও গেমিং কোম্পানিগুলোকে। এ তথ্যকে বুকি বা জুয়াড়িরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
তথ্য সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ইউরোপে জিডিপিআর আইন থাকায় খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ডেটা কিছুটা সুরক্ষিত। তবে পেশাদার চুক্তিতে খেলোয়াড়রা সাধারণত তাদের ডেটার ব্যবহার ক্লাব বা লিগকে অনুমোদন দিয়ে দেন। সম্প্রতি আমেরিকান প্রতিষ্ঠান ‘জিনিয়াস স্পোর্টস’ ১২০ কোটি ডলারে বেটিং প্ল্যাটফর্ম ‘লিজেন্ড’ কিনেছে, যা স্পোর্টস ডেটার বাজারের গুরুত্ব প্রতিফলিত করছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন