একাত্তরের মার্চের দিনগুলো আজও স্মৃতিতে গেঁথে আছে, কারণ সে সময় ছিল মানুষের জন্য এক কঠিন সময়। যুদ্ধ, আতঙ্ক, বিপদ—সব কিছু ছিল। তবে তবুও ছিল একটি স্বপ্ন, একটি সমষ্টিগত উদ্দেশ্য: দেশ মুক্তি পাবে, হানাদারদের তাড়ানো হবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর, সেই স্বপ্নের পথ কেমন যেন সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। এখন আমরা নিজের কথা ভাবি, সমাজের কল্যাণ বা দেশের জন্য কাজ করার তেমন আগ্রহ আর নেই।
স্বাধীনতা লাভের পর আমাদের রাষ্ট্রে যে পরিবর্তনটি প্রত্যাশিত ছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। রাষ্ট্রীয় কাঠামো, প্রশাসন, আইনি ব্যবস্থা—সবকিছুই পুরনো আমলাতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। আমলাতন্ত্রে যেখানে শক্তি থাকে সরকারি আমলাদের হাতে, সেখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব ছিল না, বরং সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস প্রয়োজন ছিল।
আজও আমরা উন্নতির দিকে যাওয়া বদলে, ব্যক্তি-স্বার্থের দিকে ঝুঁকে পড়েছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হতে হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সবার সমান অধিকার থাকবে এবং বৈষম্য দূর হবে। কিন্তু বাস্তবে, যেটি ঘটছে তা হলো—ধনী আরো ধনী হচ্ছে, গরিব আরো গরিব হচ্ছে। বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জাতির গৌরবও সবার মধ্যে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে।
এই সংকট থেকে বের হওয়ার পথ একটাই: একাত্তরের চেতনা—দেশপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ধারণা ফিরিয়ে আনা। আমাদের সব কাজের কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে মানুষ, কাজ, এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশকে শক্তিশালী করা। আমাদের শাসকরা যদি এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ না করেন, তবে দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হবে।
যতদিন না দেশের রাজনীতি, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত করা হবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম শেষ হবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই একমাত্র আমাদের পথপ্রদর্শক, এবং সেই চেতনাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন