বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা তালিকা নিয়ে দীর্ঘ ৫৫ বছর পরও সঠিক, নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে এবং আটবার তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে তালিকায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা বেড়েছে, যার অভিযোগ প্রতি তিন জনের মধ্যে দুই জনই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৯০ হাজারেরও বেশি মুক্তিযোদ্ধা ভুয়া হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে।
এদিকে, বিএনপি সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক এই কাজের জন্য নির্দেশনা দেন। তার উদ্যোগে একাধিক জেলা ও উপজেলা থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়া, মুক্তিযোদ্ধাদের সনদে জালিয়াতির কারণে ৭১ জন ব্যক্তির গেজেট বাতিল করা হয়েছে এবং প্রায় ৩,৯৯৭ জন মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছে গত ১৫ বছরে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল সঠিক মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া।
এছাড়া, গত ৩০ বছরে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৮৬ হাজার থেকে বেড়ে ২ লাখ ৮ হাজার ৫০ জনে পৌঁছেছে, যা অনেকের মতে অস্বাভাবিক। এই পরিস্থিতির মধ্যে সরকার মুক্তিযোদ্ধা সনদের বৈধতা নিশ্চিত করতে এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে একতাবদ্ধ হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন