চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরে ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে সিএনএন। এর মধ্যেই মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি চলছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেই এই হামলা শুরু হতে পারে। তবে তিনি এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ সম্ভাব্য এই সংঘাতের প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও পড়তে পারে—যার বোঝা সাধারণ নাগরিকদের বহন করতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানও কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্স-এ দেওয়া বার্তায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাতে জড়ায়, তবে তার অর্থনৈতিক পরিণতি আমেরিকান জনগণকেই বহন করতে হবে। তিনি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে অস্থিরতা এবং ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির মতো বিষয়কে সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য পৃথক পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এমনকি একটি সম্ভাব্য অভিযানের নামও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—যার নাম হতে পারে ‘এপিক ফিউরি ২.০’। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে অনুরূপ একটি অভিযানের নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমানে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা অবস্থান করছে এবং তারা উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে—তবে তা এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে ইরানকে রাজি করানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক্স (সামাজিক মাধ্যম) বক্তব্য
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন