ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা অচল হয়ে পড়ায় আগামী সপ্তাহের মধ্যেই দেশটিতে নতুন করে যৌথ সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এমন আশঙ্কার মধ্যেই দুই দেশ চূড়ান্ত যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। মধ্যপ্রাচ্যের দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে আগের তুলনায় আরও বড় পরিসরের হামলা চালানো হতে পারে। সম্ভাব্য এ অভিযানে ইরানের সামরিক ঘাঁটি, কৌশলগত স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম জব্দ করতে বিশেষ কমান্ডো অভিযান চালানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ ইরানের অভ্যন্তরে অভিযান পরিচালনা করতে গেলে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
এদিকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা দেশটির একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যুদ্ধ সামনে রেখেই ইসরায়েল সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। এখন তারা শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রও এখন মনে করছে যে আলোচনার মাধ্যমে ইরান সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। ফলে আগামী কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
তবে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যদি লিখিতভাবে আগামী ২০ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। যদিও এর আগে তার অবস্থান ছিল আরও কঠোর। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সম্ভাব্য সংঘাত পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন