টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পর রোদ উঠতেই হাওরাঞ্চলের কৃষিজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। কৃষকেরা এখন দ্রুত ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নদনদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বেশির ভাগ পয়েন্টে কমতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওরাঞ্চলে বোরো মৌসুমে এবার ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে। অনেক জমির ধান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কাটা ধানের একটি বড় অংশও বৃষ্টিতে ভিজে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে কয়েক দিনের রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
খালিয়াজুরী এলাকায় কৃষকেরা এখন খোলা মাঠ, বাড়ির আঙিনা ও সড়কের ধারে ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকরা জানিয়েছেন, ক্ষতি হলেও যেটুকু ধান রক্ষা করা সম্ভব, সেটাই দ্রুত শুকিয়ে সংরক্ষণ করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় এক কৃষক জানান, তার সাত একর জমির মধ্যে এক একর পানিতে তলিয়ে গেছে এবং বাকি ধান কাটা হলেও বৃষ্টির কারণে শুকাতে পারেননি। এখন রোদ ওঠায় ধান বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় কৃষি অফিস জানিয়েছে, হাওরের অনেক এলাকায় ইতোমধ্যে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান রোদ কিছুটা হলেও অবশিষ্ট ধান রক্ষায় সহায়তা করছে। কৃষকদের দ্রুত ধান শুকিয়ে সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের নিকলী এলাকায়ও রোদ ওঠার পর কৃষকেরা ধান শুকানো ও পানি থেকে ফসল উদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নদনদীর পানি বেশির ভাগ পয়েন্টে কমলেও কিছু এলাকায় সামান্য ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও উজানের পানি ও বৃষ্টিপাত বাড়লে আবারও পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাওরাঞ্চলে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গিয়ে প্রায় ৫০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন