ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
মার্কিন-ইরান চুক্তি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের মরণকামড় দেশে বর্তমানে ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিংকন বিরতিতে, আর্টসেলের নতুন কণ্ঠ বখতিয়ার লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের ৩ জনকে গলা কেটে হত্যা বিগত সরকারের নেওয়া ১৩০০ প্রকল্পকে না ফেলতে পারছি, না গিলতে পারছি: অর্থমন্ত্রী ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়াল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত জয়ের পর নেইমারকে নিয়ে বড় বার্তা দিলেন আনচেলত্তি এক ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, আরেকটির বগি লাইনচ্যুত, চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবসর ভেঙে মাঠে ফিরছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহো কাতারকে বিদায় করে নকআউটের অপেক্ষায় বসনিয়া

বীরপ্রতীকের আক্ষেপ, ‘এখন তো আমরা অবহেলার শিকার’

‘মুক্তিযুদ্ধ করে কী পেয়েছি? যখন মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলো, অস্ত্র জমা দিলাম। আমাদের দেওয়া হলো ১০০ টাকা, একখানা কম্বল
  • আপলোড সময় : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৫:১ সময়
  • আপডেট সময় : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৫:১ সময়
বীরপ্রতীকের আক্ষেপ, ‘এখন তো আমরা অবহেলার শিকার’ ছবি : সংগৃহীত

‘মুক্তিযুদ্ধ করে কী পেয়েছি? যখন মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলো, অস্ত্র জমা দিলাম। আমাদের দেওয়া হলো ১০০ টাকা, একখানা কম্বল আর একটা সনদ। এর পরের ২৫ বছর তো আমরা কিছুই পাইনি। পরে যখন সরকার ভাতা চালু করল, তখন আমাদের অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন ঘটল।


তবে স্বাধীনতার উদ্দেশ্যও বাস্তবায়ন হয়নি। আর এখন তো আমরা অবহেলার শিকার। কেউ মূল্য দিতে চায় না।’ 

কথাগুলো বলছিলেন, ৭১-এ ৯ মাস রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা কুড়িগ্রামের জেলার সূর্যসন্তান কম্পানি কমান্ডার বীরপ্রতীক আব্দুল হাই সরকার।


তার আক্ষেপ, স্বাধীনতার এত বছর পরেও হয়নি সম্মতা, ন্যায্যতা আর ভবিষ্যতেও তিনি তার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না। সবাই শুধু ক্ষমতায় যেতে ব্যস্ত। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগে ৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে কুড়িগ্রামকে হানাদারমুক্ত করেন। জেলার সূর্যসন্তান কম্পানি কমান্ডার বীরপ্রতীক আব্দুল হাই সরকারের হাত ধরে কুড়িগ্রামের বাতাসে উড়েছিল স্বাধীন বাংলার পতাকা।


কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সহকারী কমান্ডার থেকে কম্পানি কমান্ডার হওয়া এই বীরপ্রতীক তুলে ধরেন মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতিচারণা। বীরপ্রতীক আব্দুল হাই বলেন, ‘অষ্টম শ্রেণি পাস করে জীবিকার তাগিদে ঢাকা আগারগাঁওয়ে টোবাকো কম্পানিতে চাকরি শুরু করি। পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান আমি। বয়স ১৫ কি ১৬। স্বাধীনতার ডাক এলো, আর ঘরে থাকতে পারলাম না।


প্রশিক্ষণ নিতে গেলাম। প্রথম ব্যাচে বাদ পড়লাম, তবু ছেড়ে দিলাম না। আবার দ্বিতীয় ব্যাচে দাঁড়ালাম। এবারও বাদ, কারণ আমি দেখতে হালকা-পাতলা ছিলাম। অনেক অনুরোধ করে ভর্তি হলাম। ৮ এপ্রিল ১৯৭১ শুরু হলো প্রশিক্ষণ। ভারত থেকে বর্ডার পাড়ি দিয়ে পায়ে হেঁটে ১৫ এপ্রিল ফিরলাম কুড়িগ্রামে। যুক্ত হলাম ৬ নম্বর সেক্টরে। নিজ বাড়িতে গেলাম মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে। তারপর শুরু করলাম সম্মুখ যুদ্ধ।’ 

তিনি বলেন, ‘আমি ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম না। সম্মুখ যুদ্ধ করেছি, মাইন পুঁতেছি, বোমা মেরেছি।’


মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে প্রায় অর্ধশতাধিক মিশনে অংশগ্রহণ করেন এই বীর প্রতীক। সেই স্মৃতিচারাঁ করে তিনি বলেন, ‘৭১-এর জুন মাসের ঘটনা। বর্তমানে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা। সেখানে সোনাহাট ব্রিজটি স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় আমরা উড়িয়ে দিয়েছিলাম। সেদিন আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল ভারতীয় একজন কমান্ডার। কুড়িগ্রামের শুধু আমি ছিলাম। আমি যেহেতু বোম্বিংয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম, তাই তারা আমাকে সেই অপারেশনে নিয়েছিল। আমরা বোম্বিং করলাম, লন্ডভন্ড হলো সোনাহাট সেতু। পাকহানাদার বাহিনী আর ওই দিকে টহল দিতে যেতে পারল না।’ 


হালাবট অপারেশনের স্মৃতিচারণা করে আব্দুল হাই সরকার বলেন, ‘কুড়িগ্রাম সদর এলাকার হালাবট এলাকায় রেললাইনে বোম্বিং করে আমরা এক অপারেশনে ২৫ জন পাকহানাদার বাহিনীকে মেরে ফেলেছিলাম। আমাদেরও দুজন শহীদ হয়েছিল। নভেম্বর মাসের হালকা শীতের রাত। আমি ও আমার কম্পানির সদস্যরা রেললাইনে বোমা পুঁতেছিলাম। তবে পুরো ট্রেন ধ্বংস হয়নি। তারা ট্রেনের ইঞ্জিন বগির সামনে একটি ফাঁকা বগি রেখেছিল, যার কারণে বোমা ফাটলেও তাদের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। আমরা সম্মুখ যুদ্ধ করে তাদের ২০-২৫ জনকে মেরে ফেলেছি।’


মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলাদেশ ও জুলাই বিপ্লব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি। আমরা যুদ্ধ করেছি জাতির মুক্তির আশায়, প্রজাতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদের জন্য। এসব বাস্তবায়ন হলে মানুষের স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। স্বাধীনতার এত বছরেও তা প্রতিষ্ঠিত হলো না। আর জুলাই আন্দোলন হলো, বিপ্লব হলো কিন্তু বিপ্লবী সরকার হলো না। বাহাত্তরের সংবিধানেই তারা শপথ নিলেন। জুলাই সনদও বাস্তবায়ন হলো না। তাহলে হলো কোনটা?’


তিনি আরো বলেন, ‘লুটপাট বাস্তবায়ন হচ্ছে। এখন তো মবের মুল্লুক হয়েছে, মব সন্ত্রাস হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো কর্মসূচি নেই। সবাই শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করছে। জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য কেউ নাই।’


প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় হওয়ার আগে, ৬ ডিসেম্বর বীর প্রতীক আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে ৩৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল বিকেল ৪টায় কুড়িগ্রাম শহরে প্রথম প্রবেশ করে নতুন শহরের ওভার হেড পানির ট্যাংকের ওপরে (বর্তমানে সদর থানার উত্তরে অবস্থিত) স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে চারদিকে ছড়িয়ে দেন বিজয়বার্তা। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে তাকে বীরপ্রতীক খেতাবের সম্মাননা স্মারক তুলে দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ব্রাজিলের খেলোয়াড়কে ঘুমের ওষুধ খাইয়েছিল আর্জেন্টাইনরা

ব্রাজিলের খেলোয়াড়কে ঘুমের ওষুধ খাইয়েছিল আর্জেন্টাইনরা