কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, একটি গাছ মানে একটি প্রাণ। গাছ ছাড়া আমাদের জীবন কল্পনা করতে পারি না। আমরা আমাদের সন্তানদের পরামর্শ দেব তারা যেন গাছ লাগায় ও গাছের যত্ম করে।
একইসঙ্গে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনের রূপ দিতে হবে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। গাছ আমাদেরকে অক্সিজেন দেয়। গাছ লাগনোর পর বড় করতে অনেক দিন লেগে যায়, কিন্তু কাটতে খুবই অল্প সময় লাগে। আমরা কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই গাছ কেটে থাকি। কিন্তু একটি গাছ কাটার পরিবর্তে কয়টা গাছ রোপণ করতে হবে সেই বিষয়ে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। প্রতিটি ধর্মেই গাছ লাগানোর বিষয় উল্লেখ আছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। ‘পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যে জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় বন বিভাগের আয়োজনে কুষ্টিয়ায় ১৫ দিন ব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।
সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিকদার মো: হাসান ইমাম, জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুফী মো: রফিকুজ্জামান, কুষ্টিয়া জেলা নার্সারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, জেলা শিক্ষা অফিসার আবু তৈয়ব মো: ইউনূস, গণমাধ্যমকর্মী এম লিটনউজ্জামান, ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদী হাসান, মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন মিলন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মানুষেরই দায় রয়েছে। বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় এখানে বনভূমি সৃষ্টির পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই সরকারি উদ্যোগে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বাড়িঘর, ফাঁকা মাঠ, সড়কের পাশে ও অফিস-আদালতের আশপাশে গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক বনায়নের প্রচার ও জনগণকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এ ধরনের বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। সামাজিক বনায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ কর্মসূচি চলমান থাকবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন