জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সাফল্যকে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের একক কৃতিত্ব হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই আন্দোলন ছিল গণমানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম, যার পেছনে রয়েছে অসংখ্য মানুষের ত্যাগ, সাহস ও আত্মদান। শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের অবদান জাতি কখনও ভুলবে না। তাদের আত্মত্যাগকে যথাযথ মর্যাদা দিতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, যে আদর্শ ও প্রত্যাশা নিয়ে ছাত্র-জনতা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, সেই চেতনাকে ধারণ করেই দেশ পরিচালিত হবে। আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর বিচার প্রচলিত আইনের আওতায় সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। কোনো অপরাধের বিচার করতে গিয়ে যেন অন্য কারও প্রতি অবিচার না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, বিভক্ত জাতি কখনও টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না। দেশের অগ্রগতি ও জনগণের কল্যাণের জন্য সকলকে বিভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রতিহিংসার পরিবর্তে সহযোগিতা ও সম্প্রীতির রাজনীতি প্রতিষ্ঠার ওপরও জোর দেন তিনি। দেশ পুনর্গঠনের চলমান প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র ও প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় দেশবাসীকে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি পুনরায় আশ্বাস দেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার থাকবে এবং তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবি ও অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন