লিওনেল মেসি যেন বয়সের হিসাবকেই ভুল প্রমাণ করে চলেছেন। বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে বারবার জাদুকরি পারফরম্যান্সে মুগ্ধ করে চলেছেন আর্জেন্টাইন এই তারকা। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে অভিষেকের পর টানা ছয়টি বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন তিনি, আর ২০২২ বিশ্বকাপে দলকে এনে দিয়েছেন শিরোপা। তারপরও থেমে নেই মেসির ছন্দ। বয়স ৩৯-এর কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনো আগের মতোই টগবগে, প্রাণবন্ত এবং ভয়ভীতিহীন ফুটবল খেলছেন তিনি। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে দেওয়ার অসাধারণ দক্ষতা এবং বল নিয়ন্ত্রণের জাদুতে এখনও বিশ্ব ফুটবলে শীর্ষ আলোচনায় রয়েছেন আর্জেন্টিনার এই অধিনায়ক।
সর্বশেষ ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে জয় পায়, যেখানে জোড়া গোল করেন মেসি। এই দুই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮-তে। একই সঙ্গে তিনি আরও একটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। মেসির এই পারফরম্যান্স ঘিরে ফুটবল বিশ্বে আবারও শুরু হয়েছে প্রশংসার ঝড়। অনেকে বলছেন, কাতার বিশ্বকাপের চেয়েও এখন আরও পরিণত ও ধারাবাহিক ফুটবল খেলছেন তিনি।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্মরণীয় বহু মুহূর্তের সঙ্গে মেসির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে তুলনা করছেন অনেকে। যেমন ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক গোল আজও আলোচিত, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের এই ম্যাচও দীর্ঘদিন মনে রাখবে ফুটবল বিশ্ব। বিশ্লেষকদের মতে, বয়স বাড়লেও মেসির ফিটনেস, শৃঙ্খলা ও খেলার প্রতি নিবেদন তাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। মাঠে তার আচরণ, ধৈর্য ও বিনয় তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করছেন মেসি। সেখানে খেলতে গিয়ে তিনি দলকেও শিরোপা এনে দিয়েছেন এবং নিজের ফর্ম ধরে রেখেছেন। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক বয়স বাড়লেও মানসিক প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও পেশাদারিত্বের কারণে মেসি এখনো বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রভাবশালী নামগুলোর একটি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন