কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাক থেকে আগেই তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও এবার আরও একজনের রক্তের নমুনা শনাক্ত হয়েছে। ফলে মামলায় সন্দেহভাজনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, কয়েক মাস আগে সিআইডির কাছে তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে তদন্ত সংস্থাটি জানায়, আগের তিনজনের পাশাপাশি আরও একজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও দুই দফা ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে সামনে আসে ডিএনএ পরীক্ষা। ২০১৭ সালে সিআইডি জানায়, তনুর পোশাক থেকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া গেছে। এরপর তনুর মায়ের সন্দেহ করা কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
সম্প্রতি মামলাটি আবারও আলোচনায় আসে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তনুর পোশাকে পাওয়া আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হয়নি।
জানা গেছে, হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ছিলেন। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ২০২৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন