মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহাকে ঘিরে কোরবানির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ওয়াজিব। তবে কোরবানির পশু কেনা ও শরিয়তসম্মত বিধান নিয়ে অনেকের মধ্যেই নানা প্রশ্ন দেখা যায়। বিশেষ করে গরুর সঙ্গে ফ্রি খাসি, মোবাইল বা ফ্রিজ দেওয়া হলে সেগুলোর ব্যবহার নিয়ে কৌতূহল থাকে অনেকের। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যাদের কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশু হলো উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা।
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, উটের বয়স কমপক্ষে পাঁচ বছর, গরু ও মহিষের দুই বছর এবং ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার অন্তত এক বছর হতে হবে। তবে ভেড়া বা দুম্বা ছয় মাস বয়সী হলেও যদি দেখতে এক বছরের মতো হৃষ্টপুষ্ট হয়, তাহলে তা দিয়েও কোরবানি জায়েজ। কোরবানির পশু কেনার সময় বিক্রেতারা অনেক সময় গরুর সঙ্গে খাসি, মোবাইল ফোন কিংবা ফ্রিজ ফ্রি দিয়ে থাকেন। ইসলামি আইনবিদদের মতে, এসব ফ্রি উপহার আলাদা সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। তাই গরুর সঙ্গে পাওয়া খাসি চাইলে কোরবানি করা যাবে, আবার লালন-পালন, বিক্রি বা কাউকে উপহারও দেওয়া যাবে।
যদি একাধিক ব্যক্তি মিলে গরু কেনেন, তাহলে ফ্রি পাওয়া খাসি কোরবানি করা বাধ্যতামূলক নয়। তারা চাইলে সেটি বিক্রি করে অর্থ ভাগ করে নিতে পারবেন অথবা জবাই করে গোশত ভাগ করতে পারবেন। এছাড়া গরুর সঙ্গে পাওয়া মোবাইল, ফ্রিজ বা অন্যান্য পণ্য ব্যবহার করাও বৈধ। এগুলো সদকা করে দেওয়া জরুরি নয়। কারণ এসব উপহার কোরবানির অংশ নয়; বরং আলাদা প্রাপ্ত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইসলামি সূত্র অনুযায়ী, কোরবানি শুধু নির্ধারিত গবাদিপশু দিয়েই করতে হবে। হরিণ বা বন্য ছাগলের মতো হালাল প্রাণী হলেও সেগুলো দিয়ে কোরবানি বৈধ নয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন