ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

ফিলিপাইনের পার্লামেন্টে আশ্রয় নিলেন সিনেটর, বের করতে গোলাগুলি

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার পার্লামেন্ট ভবনে দেশটির একজন শীর্ষ সিনেটর আশ্রয় নেওয়ার পর আকস্মিকভাবে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৩
  • আপলোড সময় : ১৪ মে ২০২৬, সকাল ৯:৫০ সময়
  • আপডেট সময় : ১৪ মে ২০২৬, সকাল ৯:৫০ সময়
ফিলিপাইনের পার্লামেন্টে আশ্রয় নিলেন সিনেটর, বের করতে গোলাগুলি

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার পার্লামেন্ট ভবনে দেশটির একজন শীর্ষ সিনেটর আশ্রয় নেওয়ার পর আকস্মিকভাবে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৩ মে) ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো ভবনজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উপস্থিত কর্মকর্তা–কর্মচারীরা নিরাপদ স্থানে সরে যান। আইসিসি (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত) কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর নিজের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে সিনেটর রোনাল্ড দেলা রোসা পার্লামেন্ট ভবনে আশ্রয় নেন। এর পরপরই সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে এবং গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। ৬৪ বছর বয়সী দেলা রোসা ফিলিপাইনের সাবেক পুলিশ প্রধান এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের মাদকবিরোধী অভিযানের অন্যতম প্রধান বাস্তবায়নকারী হিসেবে পরিচিত। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আইসিসি তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে।


ঘটনার সময় সিনেট ভবনে ছদ্মবেশী সামরিক পোশাকে সজ্জিত একাধিক অস্ত্রধারী সদস্য প্রবেশ করতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তবে তাদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সিনেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই তারা সেখানে উপস্থিত ছিল। অন্যদিকে জাতীয় তদন্ত ব্যুরোর (এনবিআই) সংশ্লিষ্টতা নিয়েও বিভ্রান্তি দেখা দেয়, যদিও সংস্থাটি তাদের কোনো অভিযান পরিচালনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।


ঘটনার পর ফিলিপাইনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী জানান, তখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং সিনেটর দেলা রোসা নিরাপদে আছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো ধরনের গ্রেপ্তারি অভিযান তাৎক্ষণিকভাবে চালানো হয়নি। রোনাল্ড দেলা রোসা, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘বাতো’ নামে পরিচিত, ২০১৬–২০১৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় দুতার্তে প্রশাসনের মাদকবিরোধী অভিযানে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছে।


ঘটনার পর পার্লামেন্ট ভবনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং বাইরে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ দেলা রোসার গ্রেপ্তারের দাবিতে সমাবেশ করে। একই সময়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সিনেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টির তদন্ত চলছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গুলিবর্ষণের প্রকৃত উৎস শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। দেলা রোসা ইতোমধ্যে আইসিসির হাতে হস্তান্তর ঠেকাতে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন করেছেন। আদালত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মলিন মুখে পচা ধান মন্ত্রীকে দেখালেন হাওরের কৃষক

মলিন মুখে পচা ধান মন্ত্রীকে দেখালেন হাওরের কৃষক