মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চূড়ান্তে পৌঁছেছে। ইরান ঘোষণা দিয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ না হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না। এই কঠোর বার্তা এসেছে এমন সময়, যখন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি জেনেভায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। ইউরোপীয় নেতারা ইরানকে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানান। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ইসরায়েল আগ্রাসন থামালে তবেই তারা কূটনৈতিক পদক্ষেপ বিবেচনায় নেবে।
ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির এক ভিডিও বিবৃতিতে বলেন, তারা ‘দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের’ জন্য প্রস্তুত এবং সামনে আরও ভয়াবহ সময় আসতে পারে। ইতোমধ্যে, ইসরায়েল দাবি করেছে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার ফলে তেল আবিবে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আরাঘচি বলেন, ইরান আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার চর্চা অব্যাহত রাখবে। তার ভাষায়, “ইসরায়েলের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা হতে পারে না।”
অন্যদিকে, জাতিসংঘে ইসরায়েলের স্থায়ী প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, ইরান গণহত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, ইসরায়েল তার ‘পারমাণবিক হুমকি’ ধ্বংস না করা পর্যন্ত অভিযান বন্ধ করবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আমেরিকান সামরিক হস্তক্ষেপ এড়াতে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি পদক্ষেপ নিতে পারেন। ট্রাম্প বলেন, “আমার লক্ষ্য হলো, সবাই যেন বাস্তবতা বুঝতে শেখে।”
তিনি ইউরোপীয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অবমূল্যায়ন করে বলেন, “ইরান ইউরোপের সঙ্গে নয়, আমাদের সঙ্গে কথোপকথন করতে চায়। ইউরোপের সক্ষমতা সীমিত।”
ইতোমধ্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি হুঁশিয়ার করে বলেছেন, এই সংকট ভয়াবহ প্রাণঘাতী বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন নোয়েল ব্যারট ইরানকে আলোচনায় ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানান, এমনকি হামলা বিরতির আগেই।
শুক্রবার ইরান ইসরায়েলের হাইফা শহরে অন্তত ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানায় আইডিএফ। এতে একজন ইসরায়েলি নারী হৃদরোগে মারা যান, ফলে দেশটিতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫।
ইসরায়েলও পাল্টা আঘাত চালিয়েছে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে। গেল সপ্তাহজুড়ে ইসরায়েল দাবি করেছে তারা ইরানের বহু সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্র ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে রয়েছে উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীরা।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সেখানে এখন পর্যন্ত ২২৪ জন প্রাণ হারিয়েছে। তবে একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৯ জনে।
এই অবস্থায় ইরান শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানায় তেহরান। সংঘাতের অবসান এখন কূটনীতি না যুদ্ধে, সেটাই দেখার বিষয়।
বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন