যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধের পর ইরানের ওপর পরিকল্পিত নতুন সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে এবং একটি সম্ভাব্য সমঝোতার দিকে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তাকে জানানো হয়েছে যে এমন একটি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “খুবই গ্রহণযোগ্য” হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না—এটাই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি গ্রহণযোগ্য কোনো সমঝোতা না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় বড় পরিসরের সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রকে “কৌশলগত ভুল ও ভুল হিসাব” থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে চলমান উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে কূটনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ে, কারণ সম্ভাব্য হামলার জবাবে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটকে ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ববাজারেও প্রভাব ফেলছে, যার ফলে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প পরে সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা এখনো চলমান এবং পরিস্থিতি আগের তুলনায় “ভিন্ন ও ইতিবাচক”। তবে অতীতের মতো এবারও সমঝোতা ভেঙে যেতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ইরান জানিয়েছে, তারা আলোচনায় নিজেদের শর্ত ইতোমধ্যে দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিরতি, অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ ও ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তরের মতো শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই পক্ষের অবস্থান এখনো দূরত্বপূর্ণ হলেও কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকায় পরিস্থিতি অনিশ্চিতভাবেই এগোচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন