ইরানের গণমাধ্যম ও কট্টরপন্থি রাজনৈতিক মহলে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন এক কৌশলগত আলোচনার জন্ম হয়েছে। এতদিন এই জলপথকে মূলত জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এখন এটিকে বৈশ্বিক ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্ভাব্য চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্র হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কিছু গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহল দাবি করছে যে, হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ডেটা কেবলগুলো ভবিষ্যতে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তাদের মতে, এই কেবলগুলোর মাধ্যমে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ ডেটা ও আর্থিক তথ্য আদান-প্রদান হয়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফার্স নিউজ এজেন্সি ও কিছু আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সাবমেরিন কেবল নিয়ন্ত্রণ, তদারকি কিংবা ব্যবহারের ওপর ফি আরোপের মতো ধারণাও আলোচনায় রয়েছে। যদিও বাস্তবে এমন পদক্ষেপ কার্যকর করা হলে আন্তর্জাতিক আইন, প্রযুক্তি ও কূটনৈতিক বাধার মুখে পড়তে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে ফ্যালকন, জিবিআই এবং টিজিএন-গালফসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেবল নেটওয়ার্ক গেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ার যোগাযোগ নিশ্চিত করে। এসব অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক ইন্টারনেট, ব্যাংকিং ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। ইরানি সংসদ সদস্য এশান ঘাযিযাদেহ হাশেমি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি এলাকায় ভবিষ্যতে যেকোনো কেবল স্থাপন, পরিচালনা বা মেরামতের ক্ষেত্রে ইরানের অনুমতি নেওয়ার মতো নীতিগত কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি এ ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ আরোপের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক যেসব সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়, তার ওপর এককভাবে কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জটিল এবং আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা সীমাবদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান এখন সরাসরি সামরিক সংঘাতের বদলে বিকল্প চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে অর্থনৈতিক ও ডিজিটাল অবকাঠামোকে বিবেচনায় নিচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন