চলমান সংঘাত নিরসন ও যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় ইরানকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের উদ্দেশ্যে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে ইরানের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। রোববার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, নাহলে তাদের হাতে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তার এই বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবে ওয়াশিংটন কোনো নমনীয় অবস্থান নেয়নি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কারণে আলোচনা প্রক্রিয়া অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে। এর আগেও যুদ্ধবিরতির আগে ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, সমঝোতায় না এলে ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। সাম্প্রতিক বক্তব্যেও সেই একই কড়া অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে। চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত দাবিগুলোকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং বর্তমান যুদ্ধবিরতিকে ‘লাইফ সাপোর্টে থাকা’ পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেন।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তাদের প্রস্তাব ছিল দায়িত্বশীল ও বাস্তবসম্মত। তেহরানের দাবির মধ্যে ছিল—সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ইরান ও মিত্রগোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা বন্ধ, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর সামরিক হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা। এ ছাড়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও জোর দিয়েছে তেহরান। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম বড় উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওয়াশিংটন পাল্টা কয়েকটি কঠোর শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা। যদিও সম্প্রতি ট্রাম্প কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেটি বিবেচনা করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের আগের অবস্থানের তুলনায় কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। পরে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মাঝেমধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এখনো বড় ধরনের সমঝোতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন