হরমোন ব্যবহার করে গরু মোটাতাজাকরণ আইনত নিষিদ্ধ হলেও কোরবানির পশু বাজারকে কেন্দ্র করে এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। জানা গেছে, কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী দ্রুত লাভের আশায় গরুর শরীরে স্টেরয়েড ও হরমোন জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করে পশুকে মোটা ও আকর্ষণীয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। এসব ওষুধ বিভিন্ন দোকানে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও আগের তুলনায় হরমোনের ব্যবহার কিছুটা কমেছে, তবে এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এসব ক্ষতিকর উপাদান মাংসের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে টিউমার, ক্যানসার, কিডনি ও অন্যান্য মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের মতে, হরমোন প্রয়োগ করা গরুর কিছু লক্ষণ থাকে—যেমন শরীরে অস্বাভাবিক পানি জমা, চাপ দিলে দেবে যাওয়া এবং মুখে অতিরিক্ত লালা। এসব লক্ষণ দেখে কিছুটা শনাক্ত করা সম্ভব।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, “হরমোনের ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ হলেও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। এগুলো মানবদেহে প্রবেশ করলে বিশেষ করে শিশুদের মস্তিষ্ক ও শারীরিক বিকাশে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।” তবে কিছু উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এখন স্থায়ী খামারগুলোতে হরমোন ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং শুধুমাত্র ভিটামিন ইনজেকশন দেওয়া হয়। অন্যদিকে কিছু খামারি বলছেন, সীমান্ত এলাকা থেকে আনা মৌসুমি পশুতে এখনো অনিয়ন্ত্রিতভাবে এসব ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির পশুর বাজারে কঠোর নজরদারি না থাকলে এই ধরনের অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন