জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সামনে ভবিষ্যতে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন দিনাজপুর-১ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মনজুরুল ইসলাম বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর চাপ কেবল শুরু হয়েছে, সামনে তার জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি এ কথা বলছেন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করেন মনজুরুল ইসলাম। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি তার স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে মন্তব্য করা বাকস্বাধীনতার সীমা অতিক্রম করে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে রাজনৈতিক সমালোচনা থাকতেই পারে। কিন্তু তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছেন, সেটিও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক পিটার। এ সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহ উদ্দীন নোমান চৌধুরীসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে একই অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সেখানে নূর হোসেন নামের এক প্রবাসী নিজেকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করে প্রদর্শিত তথ্য নিয়ে ‘ইতিহাস বিকৃতির’ অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ তোলার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেন। এ ঘটনায় অনুষ্ঠানে কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রেখেছেন। তাই এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঘিরে বিএনপি নেতার এই বক্তব্য এবং কনস্যুলেটের অনুষ্ঠানে সৃষ্ট উত্তেজনা—দুই ঘটনাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন