ঢাকা | |

পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন গতি, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি

বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা
  • আপলোড সময় : ১৩ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৩৪ সময়
  • আপডেট সময় : ১৩ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৩৪ সময়
পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন গতি, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি

বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে সরকার সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। এ বিষয়ে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করাই হবে কমিটির প্রধান দায়িত্ব। প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা শিগগিরই নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে নবম পে স্কেল ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এর আর্থিক প্রভাব। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়লে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে জানা গেছে।


তবে সরকার পুরো প্রক্রিয়া স্থগিত না রেখে দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বাস্তবায়নের পথ খুঁজছে। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্দিষ্ট হারে বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় নতুন পে স্কেলের দাবি জোরালো হয়।


এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।


পরে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল পে স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষতা প্রয়োজন হবে। নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রত্যাশা বেড়েছে। এখন তাঁদের নজর—মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি কবে উঠবে, কখন অনুমোদন হবে, প্রজ্ঞাপন কবে জারি হবে এবং শেষ পর্যন্ত কোন কাঠামোয় নতুন বেতন কার্যকর হবে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
অবৈধ তিন হাজার ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হচ্ছে

অবৈধ তিন হাজার ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হচ্ছে