ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক পদায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিকের বদলি স্থগিত আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না ৩০ থেকে ৭০এর দশকেও সুস্থ রাখতে পারে এই অভ্যাস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ইন্দোনেশিয়ার ৮ বিমানবন্দর বন্ধ, আটকা ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী মিয়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫ লংমার্চে পরিকল্পিতভাবে ঝামেলার প্ল্যান ছিল জামায়াতের: রাশেদ খাঁন বাবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর, আবেগঘন বার্তা দিলেন কন্যা বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি, ভিন্ন চিত্র পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে দ্রুত বিয়ে হওয়ার জন্য ১১টি করণীয় আমল সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির ওরিয়েন্টেশন ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

নলডাঙ্গা কি শুধুই জমিদারি—ইতিহাস নতুনভাবে পড়ছেন ইমদাদুল হক সোহাগ

‘রাজবাড়ি’, ‘জমিদারবাড়ি’ কিংবা ‘এস্টেট’—বাংলার ইতিহাসে বহুল ব্যবহৃত এসব পরিচয়ের আড়ালে থাকা প্রকৃত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন
  • আপলোড সময় : ১১ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৬:৫ সময়
  • আপডেট সময় : ১১ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৬:৫ সময়
নলডাঙ্গা কি শুধুই জমিদারি—ইতিহাস নতুনভাবে পড়ছেন ইমদাদুল হক সোহাগ

‘রাজবাড়ি’, ‘জমিদারবাড়ি’ কিংবা ‘এস্টেট’—বাংলার ইতিহাসে বহুল ব্যবহৃত এসব পরিচয়ের আড়ালে থাকা প্রকৃত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে অনুসন্ধান চলছে। ঐতিহাসিক যশোর অঞ্চলের নলডাঙ্গা এস্টেট ও মহামুদশাহী পরগনাকে কেন্দ্র করে এমনই এক গবেষণায় প্রচলিত ইতিহাসের বাইরে নতুন ব্যাখ্যা সামনে এনেছেন স্বাধীন গবেষক ও নীতিবিশ্লেষক মো. ইমদাদুল হক সোহাগ।


মুঘল ও ঔপনিবেশিক বাংলার স্থানীয় শাসনব্যবস্থা, জমিদারি প্রতিষ্ঠান এবং রাজস্ব প্রশাসন নিয়ে কাজ করা সোহাগের মূল প্রশ্ন—নলডাঙ্গার মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে শুধু জমিদারি হিসেবে দেখলে কি এর পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক ভূমিকা বোঝা সম্ভব? তাঁর গবেষণায় বলা হয়েছে, নলডাঙ্গা কোনো স্বাধীন বা সার্বভৌম রাষ্ট্র ছিল না। আবার এটিকে কেবল সাধারণ রাজস্ব আদায়কারী জমিদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যায় না। এই মধ্যবর্তী অবস্থান বোঝাতে তিনি ‘মধ্যবর্তী আঞ্চলিক কর্তৃত্ব’ ধারণাটি সামনে এনেছেন।


গবেষকের মতে, মুঘল, নবাবি কিংবা পরবর্তী ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে থেকেও স্থানীয় পর্যায়ে কিছু প্রতিষ্ঠান যথেষ্ট প্রভাব ধরে রাখতে পারত। রাজস্ব সংগ্রহের পাশাপাশি ধর্মীয় পৃষ্ঠপোষকতা, শিক্ষা, বাজার ব্যবস্থাপনা, জলসম্পদ, যোগাযোগ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তাদের ভূমিকা ছিল। নলডাঙ্গা এস্টেট নিয়ে সোহাগের একটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক গবেষণা নথিভুক্তির একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কর্মপত্র হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি গবেষণাটি আরও বিস্তৃত ও পরিমার্জন করেছেন। এতে ‘মধ্যবর্তী আঞ্চলিক কর্তৃত্ব’ এবং ‘স্তরভিত্তিক শাসনব্যবস্থা’ ধারণাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


গবেষণায় স্থানীয় ইতিহাসগ্রন্থ, ঔপনিবেশিক জেলা প্রতিবেদন এবং মুঘল ও ব্রিটিশ আমলের রাজস্ব ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯১১ সালে প্রকাশিত নলডাঙ্গা ও নলডাঙ্গার রাজপরিবার বিষয়ক একটি গ্রন্থকেও স্থানীয় উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পারিবারিক স্মৃতি, বংশপরম্পরা কিংবা স্থানীয় ঐতিহ্যে থাকা দাবিগুলোকে সরাসরি চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করেননি গবেষক। ভূমির অধিকার, উপাধি, সামরিক সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক মর্যাদার মতো বিষয়গুলো যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি নথিনির্ভর ও তুলনামূলক বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।


নলডাঙ্গা এস্টেটের রাজবাড়ি, মন্দির, জলাশয়, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দাতব্য কার্যক্রম ও যোগাযোগব্যবস্থাও গবেষণার আওতায় এসেছে। এসব স্থাপনা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা ও প্রভাব কীভাবে কার্যকর হতো, সেটিই বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। গবেষক মো. ইমদাদুল হক সোহাগের মতে, কোনো স্থাপনাকে শুধু ‘রাজবাড়ি’ বা ‘জমিদারবাড়ি’ হিসেবে পরিচিত করলেই তার ঐতিহাসিক অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না। বরং রাজস্ব সম্পর্ক, স্থানীয় প্রশাসনে ভূমিকা, সামাজিক প্রভাব, স্থাপত্য এবং পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


তিনি স্পষ্ট করেছেন, নলডাঙ্গাকে স্বাধীন রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা তাঁর গবেষণার উদ্দেশ্য নয়। বরং প্রচলিত পরিচয়ের আড়ালে থাকা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক জটিলতাগুলোকে নথি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের আলোকে নতুনভাবে বোঝাই তাঁর লক্ষ্য। গবেষকের এই অনুসন্ধান স্থানীয় ইতিহাসের প্রচলিত বর্ণনাকে নতুন প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে। নলডাঙ্গা কি কেবল একটি জমিদারি প্রতিষ্ঠান, নাকি বৃহত্তর শাসনকাঠামোর ভেতরে স্থানীয় ক্ষমতার একটি স্বতন্ত্র স্তর—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এগোচ্ছে গবেষণা।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রেলে নিরাপত্তার চেয়ে টিকিট তল্লাশিতেই বেশি নজর?

রেলে নিরাপত্তার চেয়ে টিকিট তল্লাশিতেই বেশি নজর?