টানা দেড় বছরের শ্বাসরুদ্ধকর সময় পার করার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবনে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর দেশ এক জটিল সাংবিধানিক সংকটে পড়ে এবং সেই সময় তাকে জরুরি অবস্থা জারির জন্য নানা মহল থেকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব সামরিক শাসনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।
রাষ্ট্রপতি জানান, আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করলে সেনাবাহিনী প্রধান **ওয়াকার-উজ-জামান**সহ তিন বাহিনীর প্রধান বঙ্গভবনে এসে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। দীর্ঘ বৈঠকের পর তত্ত্বাবধায়ক বা সর্বদলীয় সরকারের পরিবর্তে ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকারের বিধান না থাকায় আইনি জটিলতা তৈরি হলে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের মতামত চান। আদালতের পরামর্শের ভিত্তিতেই তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন। ছাত্রনেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচিত হন মুহাম্মদ ইউনূস।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে মানসিক চাপে রাখা হয় এবং বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণেও বাধা দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি বলেন, দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।
সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ভোট সম্পন্ন হয়েছে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তার মধ্যে রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলি রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি স্পষ্ট করেন, তার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল থাকলেও নির্বাচিত সরকার চাইলে তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়তে প্রস্তুত। অবসরের পর আইন পেশায় পরামর্শক হিসেবে যুক্ত থাকার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন