চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সরকারি দপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতার অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৩০ অক্টোবর) জেলা সমবায় কার্যালয়ের ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ ইউনিটের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উপস্থিতিতে দিনব্যাপী এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, সমবায় সমিতি আইন ও বিধিমালা বিষয় নিয়ে আয়োজিত ওই কর্মশালায় অংশ নেন উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল হোসেন ওরফে হোসাইন বিন ওবাইয়েদ। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘উপজেলা সমবায় প্রশিক্ষণ সেমিনারে মাননীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোজাম্মেল হক চৌধুরী মহোদয়।
পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি-জামায়াতসহ ছাত্র নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। অনেকেই পোস্টটির স্ক্রিনশট নিয়ে উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের দায়িত্বশীলদের সমালোচনা করে পোস্ট দেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফটিকছড়ির সমন্বয়ক কামরুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একজন নেতা কিভাবে একটি সরকারি প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। অথচ, পুলিশ নাকি তাদের খোঁজ পায় না।
কিন্তু তারা এখন প্রশাসনের সামনে বসে দিব্বি মিটিং করছে।’
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার বেলাল উদ্দিন মুন্না বলেন, ‘একজন নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের নেতাকে সরকারি কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো বা অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া প্রশাসনের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে। এটি প্রশাসনের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আব্দুল শহীদ ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা সমবায় সমিতিগুলোকে চিঠি দিয়েছিলাম, তারা তাদের প্রতিনিধিদের পাঠিয়েছে।
কে কোন দলের, সেটা আমাদের জানা ছিল না। তবে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উপজেলা সমবায় দপ্তরের প্রধান ও উক্ত প্রশিক্ষণের পরিচালক হিসেবে এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সমবায় অফিসারের ওপর বর্তায়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে জেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।’
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন