ঢাকার কোতোয়ালীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন লাল চাঁন ওরফে সোহাগ নামে এক ব্যবসায়ী। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতা ছিল, যার পেছনে ছিল ব্যবসায়িক স্বার্থের সংঘাত।
শনিবার (১২ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দিন বলেন, গত ৯ জুলাই বিকেল ৫টা ৪০ থেকে ৬টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েকজন ব্যক্তি সোহাগকে ঘিরে ধরে মারধর করে হত্যা করে। পুলিশ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাৎক্ষণিকভাবে দুজনকে আটক করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠায়।
ডিসি জসীম উদ্দিন জানান, ওই এলাকায় ভাঙারি ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। সোহাগ ও অভিযুক্তরা পূর্বে একসঙ্গে ব্যবসা করতেন। তবে অর্থনৈতিক লেনদেনের জটিলতা ও মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ থেকে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরদিন, ১০ জুলাই, নিহতের বোন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর-৭)। এরপর ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে আটক করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, “আমরা অপরাধের প্রেক্ষিতে তদন্ত পরিচালনা করি, রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়। তবে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি চাঁদাবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় বলেই আপাতত তদন্তে উঠে এসেছে। এটি মূলত ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধের পরিণতি। তাছাড়া, পুলিশ ঘটনাস্থলে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন