আলোচিত ব্যবসায়ী ও এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে এক বিলিয়ন ডলারের বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগে দেশ-বিদেশে বিপুল সম্পদে আদালত কর্তৃক একের পর এক অবরোধ ও জব্দের আদেশ জারি করা হচ্ছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহিম মিয়া সিঙ্গাপুরে তাদের মালিকানাধীন ৬৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ১০টি কোম্পানির শেয়ার আটকের নির্দেশ দিয়েছেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ জানান, এসব হিসাবের মধ্যে এস আলমের ৪০টি, তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনের ৬টি, ছেলে আশরাফুল, আহসানুল ও আসাদুল আলমের মোট ১৫টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এছাড়াও তাদের শ্যালক ও বোনেরও একাধিক হিসাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আদালত এস আলম পরিবারের দেশ-বিদেশের শেয়ার, ব্যাংক হিসাব ও জমি জব্দের ধারাবাহিক নির্দেশনা দেয়। ২০২৩ সালের আগস্টে ডেইলি স্টারে প্রকাশিত “এস আলম’স আলাদিন’স ল্যাম্প” প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে দুদক প্রথম অনুসন্ধানে নামে।
পরবর্তীতে হাই কোর্টের স্থিতাবস্থা আদেশ বাতিল হলে, দুর্নীতিবিরোধী কমিশন আবারও সক্রিয় হয় এবং বিএফআইইউসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে নথি চেয়ে পাঠায়।
তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে এস আলম পরিবারের নামে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার সম্পদ, শেয়ার এবং ব্যাংক হিসাবে আদালতের অবরোধ আরোপ করা হয়েছে।
সিঙ্গাপুর, সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ ও জার্সির মতো দেশে গড়ে তোলা ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য নিয়েও তদন্ত চলছে।
চট্টগ্রাম-ভিত্তিক এই শিল্পগোষ্ঠী ব্যাংক খাত থেকে বিপুল অঙ্কে অর্থ নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যার অধিকাংশ ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক থেকে বলে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
এস আলম বর্তমানে নিজেকে সিঙ্গাপুরের নাগরিক দাবি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সবশেষ, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত এস আলম ও তার ঘনিষ্ঠজনদের নামে থাকা প্রায় দুই হাজার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন