ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
রাজমিস্ত্রী থেকে বিশ্বকাপ দলে ইগর থিয়াগো রামিসা হত্যা: আদালতে নেওয়া হয়েছে দুই আসামিকে অফ-ফর্মে থাকা বুমরাহকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন জয়াবর্ধন ৭ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন , ছুটি বাতিল হতে পারে বিশেষ আদালতের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাত্রদল নেতার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে অতিথি জামায়াতের এমপি আগামীকাল থেকে চলবে ১০টি স্পেশাল ট্রেন: রেলমন্ত্রী ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গবাসীদের জন্য বিশাল সুখবর পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে কড়া বার্তা ইরানের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের ‘হজে ঝগড়া-বিবাদ নয়, ইবাদতেই মন দিন’- মসজিদে নববীর ইমামের হৃদয়ছোঁয়া আহ্বান শ্রীমঙ্গলে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

শেরপুরে আগাম বন্যার শঙ্কা

গত পাঁচদিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি পানির ঢলে শেরপুর জেলার নদী-নালার পানি
  • আপলোড সময় : ২১ মে ২০২৫, দুপুর ১১:৪০ সময়
  • আপডেট সময় : ২১ মে ২০২৫, দুপুর ১১:৪০ সময়
শেরপুরে আগাম বন্যার শঙ্কা
গত পাঁচদিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি পানির ঢলে শেরপুর জেলার নদী-নালার পানি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই জেলার নিচু এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং আবহাওয়া অফিস জেলার জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলার নিচু অঞ্চলে পানি ঢুকে পড়তে পারে, যা জনজীবন এবং কৃষিখাতে বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগাম প্লাবন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় দুর্যোগ প্রস্তুতি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের দ্রুত ধান কর্তন করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জনসচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।

২০ মে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালি নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১২৮ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছিল।

ঝিনাইগাতীর মহারশি নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে সেখানকার প্রতিরক্ষা বাঁধও হুমকির মুখে পড়েছে। গত বছরের পাহাড়ি ঢলের ক্ষতিসাধনের পর ওই বাঁধের মেরামত কাজ চলমান থাকলেও আগাম বৃষ্টিতে সেটি আবার ঝুঁকিতে পড়েছে। দিঘীরপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন ওই বাঁধে ইতোমধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বালুর বস্তা ভেঙে পড়তে শুরু করেছে।

অন্যদিকে, সোমেশ্বরী নদীর প্রবল স্রোতের তোড়ে ঝিনাইগাতীর বাগেরভিটা এলাকায় নির্মাণাধীন চাপাতলী সেতুর সাটারিং ধসে পাশের তিনটি দোকানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সেতুটি খুব নিচু করে তৈরি করা হওয়ায় বৃষ্টির পানি সঠিকভাবে প্রবাহিত হতে পারছে না, ফলে আশপাশের বসতবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে।

জেলার বোরো ধান চাষের জমিগুলোতেও পানি জমে গেছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, মাঠের প্রায় ২০ শতাংশ ধান এখনও কর্তন হয়নি। দ্রুত ধান কাটার চেষ্টা করা হলেও অনেকে শস্য ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), শেরপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান জানিয়েছেন, পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে। নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে ৮ হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, জেলার প্রায় ৮৫ শতাংশ বোরো ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। অবশিষ্ট ধান দ্রুত কর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ বেশিরভাগ ধানই পাকতে শুরু করেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। একইসাথে, মন্ত্রণালয়ে শুকনো খাবার ও গৃহনির্মাণ সামগ্রী (টিন) চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বেড়েছে, তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”
  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: স্টাফ রির্পোটার।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ