ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
রাজমিস্ত্রী থেকে বিশ্বকাপ দলে ইগর থিয়াগো রামিসা হত্যা: আদালতে নেওয়া হয়েছে দুই আসামিকে অফ-ফর্মে থাকা বুমরাহকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন জয়াবর্ধন ৭ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন , ছুটি বাতিল হতে পারে বিশেষ আদালতের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাত্রদল নেতার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে অতিথি জামায়াতের এমপি আগামীকাল থেকে চলবে ১০টি স্পেশাল ট্রেন: রেলমন্ত্রী ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গবাসীদের জন্য বিশাল সুখবর পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে কড়া বার্তা ইরানের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের ‘হজে ঝগড়া-বিবাদ নয়, ইবাদতেই মন দিন’- মসজিদে নববীর ইমামের হৃদয়ছোঁয়া আহ্বান শ্রীমঙ্গলে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বড় সুযোগ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হতে চলেছে। দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার আগামী কয়েক
  • আপলোড সময় : ১৫ মে ২০২৫, দুপুর ১১:৫ সময়
  • আপডেট সময় : ১৫ মে ২০২৫, দুপুর ১১:৫ সময়
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বড় সুযোগ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হতে চলেছে। দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় বারো লক্ষ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে বলে আশা করা যাচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ হাজার শ্রমিক কোনো প্রকার খরচ ছাড়াই সেখানে কাজের সুযোগ পাবেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাশুসন ইসমাইল ও মানবসম্পদ মন্ত্রী স্টিভেন সিম চি কেওয়ার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সভায় মিলিত হবেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকেই শ্রমিক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

এর আগে গত বছর অক্টোবর মাসে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আনোয়ার ইব্রাহিম এক সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন। রাজধানী ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠক শেষে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ড. ইউনূস উল্লেখ করেন যে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাংলাদেশ আগ্রহী। উভয় দেশই সম্পর্ককে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রযুক্তি বিষয়ক বিষয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনশক্তি রপ্তানি, যোগাযোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয় নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আনোয়ার ইব্রাহিম ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে বলেন, মানুষের মর্যাদা রক্ষায় ড. ইউনূসের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ড. ইউনূসকে চেনেন এবং তার উপর আস্থা রাখেন। বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তাদের সর্বাত্মক সমর্থন থাকবে বলেও তিনি জানান।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের কর্মীরা কোনোভাবেই আধুনিক দাস নন। তিনি বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে কাজ করছেন। বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু করে বন্ধুপ্রতীম বাংলাদেশকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে যাচ্ছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা এমনটাই মনে করছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া আগামী কয়েক বছরে প্রায় বারো লক্ষ কর্মী নিয়োগ করবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য এটি একটি বিশাল সুখবর। শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটিতে একজন সাধারণ শ্রমিকের বেতন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তুলনায় দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি। কিছু জটিলতার কারণে প্রায় এক বছর ধরে এই বিশাল শ্রমবাজারটি স্থগিত ছিল। ধীরে ধীরে সেই সমস্যা কেটে গেছে এবং মালয়েশিয়ায় বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, এই বিশাল শ্রমবাজারটি উন্মুক্ত হলে এবং বাংলাদেশ থেকে বৈধ উপায়ে শ্রমিকরা মালয়েশিয়া গেলে দেশ এবং অভিবাসী উভয়ই উপকৃত হবে। এর মাধ্যমে দেশে রেমিটেন্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।

কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, মালয়েশিয়ায় পর্যাপ্ত সংখ্যক শ্রমিক পাঠানো গেলে বাংলাদেশ বছরে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রেমিটেন্স অর্জন করতে পারবে। এক্ষেত্রে কোন এজেন্সি শ্রমিক পাঠাচ্ছে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, শ্রমিকরা যাতে কম অভিবাসন ব্যয়ে সেখানে যেতে পারে এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। তারা আশা করছেন, স্বল্প খরচেই কর্মীরা নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ লাভ করবেন।
  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: স্টাফ রির্পোটার।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ