ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় মধ্যরাতে পুলিশের হানা: ৮৫ তরুণ-তরুণীকে কারাদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতি ও 'সফট পাওয়ার' হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর স্পেনে বিরল রাজকীয় সম্মাননায় ভূষিত মেসি: একমাত্র অ্যাথলেট হিসেবে অর্জন করলেন ঐতিহাসিক অ্যাওয়ার্ড ইয়েমেনে সৌদি জোটের তীব্র বিমান হামলা: সানায় নিহত অন্তত ৩, আহত বহু যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিপরীতে আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণের ঘোষণা ইরানের; মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা ডিএসসিসির অবকাঠামো সংস্কারে ৭১৪ কোটি টাকার উদ্যোগ, একনেকে উঠছে ১৫ প্রকল্প চাঁদপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ড: জানালা দিয়ে বস্তু নিক্ষেপের অভিযোগ গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও ৩ সদস্যকে মারধর অরুণাচলে মেগা বাঁধ প্রকল্পের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন: যৌথ বাহিনীর টিয়ার গ্যাস, থমথমে পরিস্থিতি শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৫ম বারের মতো দানবাক্স ও ডেগ খুলে অর্থ গণনা শুরু

এক অন্যরকম আত্মিক বন্ধন, অকৃত্রিম ভালোবাসা

রোদ-বৃষ্টি কিংবা গভীর রাত—সময় কিংবা আবহাওয়া কোনো কিছুই যেন তাদের অপেক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। প্রতিদিন একই জায়গায়
  • আপলোড সময় : ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫১ সময়
  • আপডেট সময় : ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫১ সময়
এক অন্যরকম আত্মিক বন্ধন, অকৃত্রিম ভালোবাসা

রোদ-বৃষ্টি কিংবা গভীর রাত—সময় কিংবা আবহাওয়া কোনো কিছুই যেন তাদের অপেক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। প্রতিদিন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। অপেক্ষা শুধু একটি মুহূর্তের—প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর কখন সেই পথ দিয়ে যাবে, আর কখন মিলবে প্রিয় মানুষটিকে একনজর দেখার সুযোগ। কেউ অফিসে যাওয়ার পথে নিয়ম করে দাঁড়িয়ে থাকেন। কেউ আবার প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথ খুঁজে নিয়েছেন। রিকশার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা, দোকানের সামনে অপেক্ষা করা কিংবা ফুটপাতের ব্যস্ততা কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকা—উদ্দেশ্য সবার একটাই, গাড়ির ভেতরে থাকা প্রধানমন্ত্রীকে একবার চোখের দেখা দেখা।


দিনের পর দিন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে এসব মানুষ এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। গাড়িবহর তাদের কাছে পৌঁছালে অনেক সময় গতি কিছুটা কমে আসে। রাস্তার পাশ থেকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান অপেক্ষমাণ মানুষগুলো। আর গাড়ির ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে হাত তুলে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন। রমনা থানার পাশে একটি এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন পাবনার এক বৃদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি হাতে ধানের শীষ নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন। একঝলক দেখা, হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানানো—এরপর নাশতা করে কাজে যোগ দিতেন তিনি।


সময় বদলেছে। সেই এটিএম বুথ এখন স্থায়ীভাবে বন্ধ। চাকরিটিও নেই তার। কিন্তু অপেক্ষার অভ্যাসটি বদলায়নি। এখনো প্রতিদিন নিরাপত্তাকর্মীর পুরোনো পোশাক পরে হাতে ধানের শীষ নিয়ে তিনি চলে আসেন সেই জায়গায়। দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের অপেক্ষায়। একসময় দূর থেকে দেখা যায় গাড়িবহর আসছে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য চোখে চোখ পড়ে, হাত নাড়ার মধ্য দিয়ে বিনিময় হয় শুভেচ্ছা। তারপর গাড়ি চলে যায়। বৃদ্ধও ফিরে যান নিজের গন্তব্যে। তার কাছে এই কয়েক মুহূর্তের দেখাই যেন সারাদিনের প্রশান্তির কারণ।


গুলশানের বাসা থেকে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথে বনানীর দুবাই মার্কেটের কাছেও নিয়মিত অপেক্ষা করেন দুজন রিকশাচালক। জীবিকার ব্যস্ততার মধ্যেও তারা সময় বের করে দাঁড়িয়ে থাকেন গাড়িবহরের অপেক্ষায়। গাড়ি কাছে এলেই চোখেমুখে ফুটে ওঠে আবেগ। কথা হয় না, গাড়িও থামে না—তবু একঝলক দেখাতেই যেন পূর্ণ হয় তাদের অপেক্ষা। বনানী কাঁচাবাজারের কাছেও রয়েছে এমন কিছু পরিচিত মুখ। ফুল ও ফল বিক্রেতা, ফুটপাতের হকার—অনেকেই কাজের ফাঁকে অপেক্ষা করেন সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটির জন্য। গাড়িবহর সামনে এলেই ব্যস্ততা থেমে যায়। কেউ হাত নাড়েন, কেউ শুধু অপলক তাকিয়ে থাকেন।


কামাল আতাতুর্ক সড়কেও এমন একজনের দেখা মেলে, যিনি রাতের অপেক্ষায় থাকেন। কখনো সেই অপেক্ষা গড়ায় গভীর রাত পর্যন্ত। নাম হয়তো কেউ জানে না, কিন্তু একই জায়গায় দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। রাতে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি ওই এলাকায় পৌঁছালে অনেক সময় গতি কমে আসে। গাড়ির ভেতরের আলো জ্বলে ওঠে, অপেক্ষমাণ মানুষটিও হাত নাড়েন। ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাত তুলে সেই শুভেচ্ছার জবাব দেন। কয়েক সেকেন্ডের এই দৃশ্যেই যেন শেষ হয় দীর্ঘ প্রতীক্ষা।


কাজ শেষে রাতে গুলশান-২ এলাকার প্রধান সড়ক থেকে আশপাশের গলি, রেস্তোরাঁ ও হোটেলের অনেক কর্মচারীও অপেক্ষায় থাকেন। তাদের কাছাকাছি পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী গাড়ির ভেতরের আলো জ্বালিয়ে দেন, যাতে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো তাকে স্পষ্ট দেখতে পারেন। আলো জ্বলে উঠলেই চেনা মুখগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ। কেউ হাত নাড়েন, কেউ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকেন। আর চলন্ত গাড়ির ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাত তুলে তাদের শুভেচ্ছার উত্তর দেন।


পুরো ঘটনাটি স্থায়ী হয় মাত্র কয়েক মুহূর্ত। গাড়ি থামে না, হয় না কোনো আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ, কথাও হয় না। তবু প্রতিদিনের এই ক্ষণিকের দেখার মধ্য দিয়েই তৈরি হয়েছে এক ধরনের নীরব সম্পর্ক। শুরুতে অপেক্ষাটা ছিল একতরফা। পথের পাশের মানুষগুলো জানতেন, এই পথ দিয়েই প্রধানমন্ত্রী যাবেন। তাই কাজের ফাঁকে তারা এসে দাঁড়াতেন। সময়ের সঙ্গে সেই অপেক্ষা যেন দুই পক্ষের পরিচিতিতে রূপ নিয়েছে। নির্দিষ্ট জায়গাগুলোতে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীও এখন সেই চেনা মুখগুলো খুঁজে নেন।


এই সম্পর্কের নেই কোনো মঞ্চ, নেই বক্তৃতা কিংবা আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন। আছে শুধু অপেক্ষা, পরিচিত মুখ আর একে অন্যকে খুঁজে নেওয়ার নীরব আকর্ষণ। কয়েক হাত দূরত্বে চলন্ত গাড়ি আর রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ—কয়েক মুহূর্তের সেই দেখাই যেন তাদের মধ্যে গড়ে তুলেছে এক অদৃশ্য বন্ধন।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
টঙ্গীতে শিশুকন্যাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসাশিক্ষক আটক, থানায় দুই পক্ষের মামলা

টঙ্গীতে শিশুকন্যাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসাশিক্ষক আটক, থানায় দুই পক্ষের মামলা