রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পরই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের দাবি তুলেছে এই জোট। রোববার নির্বাচন কমিশন ভবনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন অলি আহমেদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন।
যাচাই-বাছাই শেষে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রতিনিধি দলের সদস্য ও ঢাকা-১৬ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেন সাংবাদিকদের জানান, অলি আহমেদের মনোনয়নপত্রে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। ফলে আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি বৈধ প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবেন।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল বাতেন বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হবে না। নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত অংশ নেওয়ার লক্ষ্যেই অলি আহমেদের মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশা করছেন।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন জোটের নেতারা। তাদের দাবি, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দিতে পারছেন না।
আবদুল বাতেন বলেন, সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটাধিকারের পথে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বড় ধরনের বাধা। তাই যেকোনো মূল্যে এই অনুচ্ছেদ সংশোধন করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধি দলে জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, এলডিপির মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলামসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অলি আহমেদের বৈধ মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক হিসেবে রয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। আর সমর্থক হিসেবে রয়েছেন এনসিপির আবদুল্লাহ আল আমিন। এদিকে ২০ আগস্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে অলি আহমেদের মনোনয়ন বৈধ হওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন