খেজুর শুধু ধর্মীয় বা বিশেষ সময়ের খাবার নয়, বরং সারা বছর খাওয়ার উপযোগী একটি পুষ্টিকর ফল। প্রাকৃতিক মিষ্টতায় ভরপুর এই ফলে রয়েছে খাদ্যআঁশ, খনিজ ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, যা শরীরের শক্তি জোগানোর পাশাপাশি হজম প্রক্রিয়াকেও সহায়তা করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খেজুর বিভিন্নভাবে খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা যায়। তবে এর সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে খাওয়ার ধরন ও পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।
তাজা খেজুরে মিলবে হালকা ও পুষ্টিকর স্বাদ—
তাজা খেজুরে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি নরম ও সহজপাচ্য। তুলনামূলক কম ক্যালোরি ও প্রাকৃতিক শর্করা থাকায় এটি দ্রুত শক্তি জোগাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ঠান্ডা স্থানে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
শুকনা খেজুর খেতে হবে পরিমিতভাবে—
শুকনা খেজুরে শক্তি, খাদ্যআঁশ এবং খনিজ উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকে। এতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, তামা, সেলেনিয়াম ও বিভিন্ন ভিটামিন পাওয়া যায়। তবে এতে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণও বেশি হওয়ায় একসঙ্গে অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়, বিশেষ করে যাদের রক্তে শর্করার সমস্যা রয়েছে।
চিনির বদলে খেজুরের পেস্ট—
বর্তমানে অনেকেই কেক, বিস্কুট বা অন্যান্য বেকারি খাবারে পরিশোধিত চিনির পরিবর্তে খেজুরের পেস্ট ব্যবহার করছেন। এতে খাবারের স্বাদ বজায় থাকে, পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত চিনি এড়ানো সম্ভব হয়। খেজুর থেকে জ্যাম, জেলি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর উপাদানও তৈরি করা যায়।
রান্নায় ব্যবহার করা যায় খেজুরের সিরাপ—
প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদের কারণে খেজুরের সিরাপ রান্না ও বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি সাধারণ চিনির তুলনায় কিছুটা পুষ্টিগুণসম্পন্ন হলেও ক্যালোরি কম নয়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা বা ডায়াবেটিস ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সতর্কতার সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত।
নতুন সম্ভাবনা ফারমেন্টেড খেজুর—
খেজুরের রস থেকে ভিনেগারসহ বিভিন্ন ধরনের ফারমেন্টেড খাদ্য ও পানীয় তৈরি করা সম্ভব। আধুনিক খাদ্যপ্রযুক্তিতে এ ধরনের পণ্যের ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে।
যেভাবে খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন—
খেজুর সহজেই দৈনন্দিন খাবারের অংশ হতে পারে। এটি স্মুদি, দই, সালাদ, স্বাস্থ্যকর নাশতা, এনার্জি বার, পুডিং কিংবা বিভিন্ন বেকারি খাবারের সঙ্গে খাওয়া যায়। বাদাম, পনির বা গাঢ় চকলেটের সঙ্গেও খেজুরের স্বাদ বেশ জনপ্রিয়।
পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুরে থাকা খাদ্যআঁশ রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি রোধে সহায়ক হতে পারে। তবে সুস্থ ব্যক্তি হোন বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত—সবার ক্ষেত্রেই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত খেলে উপকারের বদলে ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন