বহুল আলোচিত বিয়ে-সংক্রান্ত মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় উভয় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর দুপুর ১টা ৪৪ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান নাসির হোসেন। এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের হারতে দেন নাই। অবশেষে সত্যের জয় হলো।” একই সঙ্গে তিনি বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে সঠিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আরও এক বার্তায় নাসির বলেন, মিথ্যা অপপ্রচার ও মনগড়া তথ্যকে উপেক্ষা করে সত্যের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করায় তিনি আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ। এই মামলার বাদী ছিলেন তামিমা সুলতানা তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হোসেন। তার অভিযোগ ছিল, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই তামিমা নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন। তবে শুরু থেকেই নাসির ও তামিমা এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে আসছিলেন, পূর্ববর্তী বৈবাহিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাকিব হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। এরপর একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন রাকিব।
তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়ে নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা তাম্মি এবং তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করেন। পরে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তবে সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। রিভিশন আবেদন খারিজ হওয়ার পর ২০২৩ সালের ২০ মার্চ থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং তামিমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন।
গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আদালত ১০ জুন রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। বাদীপক্ষ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে শাস্তির আবেদন জানালেও আসামিপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে খালাস চান। সবশেষে দীর্ঘ শুনানি ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দেন।
সূত্র: আদালতের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক তথ্য।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন