ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
ইরান ‘মার্কিন স্থল অভিযান’-এর জন্য প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে, কৌশলে বড় পরিবর্তনের আভাস শাবিপ্রবির ১০ তলা ভবন নির্মাণে মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ এসএসসির খাতা পুনঃমূল্যায়নে ১২ লাখের বেশি আবেদন, আসছে নীতিমালা হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের, বাস্তবে কি সম্ভব? নেইমারের সঙ্গে হাত মেলালেন না সেই ‘পুরোনো শত্রু’ মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট সৌরবিদ্যুতে ব্যাটারি চার্জ হলে রেজিস্ট্রেশন পাবে রিকশা: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এবার আসামি হচ্ছেন ৩ সাংবাদিক বাংলাদেশের কাছে হারের পর বড় শাস্তির শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া সরকারের ১৮০ দিনের হানিমুন পিরিয়ড শেষ করেছি: শিক্ষামন্ত্রী

বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের অনার্স কোর্স বাতিল হচ্ছে

দেশের উচ্চশিক্ষাকে কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক করতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন খসড়া মডেল অনুযায়ী
  • আপলোড সময় : ৯ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৪৭ সময়
  • আপডেট সময় : ৯ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৪৭ সময়
বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের অনার্স কোর্স বাতিল হচ্ছে

দেশের উচ্চশিক্ষাকে কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক করতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন খসড়া মডেল অনুযায়ী বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ প্রায় ছয়টি বিষয়ে অনার্স কোর্স বাতিল করে সেগুলো অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আইটি ও কারিগরি শিক্ষার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতাভিত্তিক বিষয়। পাশাপাশি কলেজ পর্যায়ে চালু করা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, গড়ে তোলা হচ্ছে ক্যারিয়ার সেন্টার এবং শিক্ষার্থীদের শেখানো হবে সাতটি বিদেশি ভাষা।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সম্প্রতি শিক্ষা ব্যবস্থার এই সংস্কার নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনাও হয়েছে। সেখানে শিক্ষাকে শুধু সনদনির্ভর না করে দক্ষতা ও কর্মমুখী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন একটি শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু ডিগ্রি নয়, বাস্তব জীবনে কাজে লাগার মতো দক্ষতা অর্জন করবে।


শিক্ষাবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই বলছেন, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা কর্মসংস্থানের সঙ্গে যথাযথভাবে সংযুক্ত নয়। ফলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৩ বছরে উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের হার কয়েকগুণ বেড়েছে, আর দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থানই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। এদিকে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক পাঠদান বজায় রাখতে পাবলিক পরীক্ষাতেও বড় সংস্কারের পরিকল্পনা চলছে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় সংখ্যা এবং পরীক্ষা গ্রহণের দিন কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।


জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসিতে ৩০ থেকে ৩৫ কর্মদিবস পর্যন্ত সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার্থীরাও অতিরিক্ত মানসিক চাপে পড়ে। সরকারের নতুন পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো এই জটিলতা কমিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা।


নতুন শিক্ষাক্রম নিয়েও বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলামে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয় দুটি এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। নতুন কাঠামোয় কিছু বিষয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।


শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে বিদ্যমান শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করা হবে এবং ২০২৮ সালে পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তিত কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। সব মিলিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বড় রূপান্তরের প্রস্তুতি চলছে। লক্ষ্য একটাই—শিক্ষাকে বাস্তব দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডাক্তার থেকে দূরে থাকতে প্রতিদিন এক কাপ ‘গ্রিন টি’

ডাক্তার থেকে দূরে থাকতে প্রতিদিন এক কাপ ‘গ্রিন টি’