উত্তর ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েলও খুব দ্রুত ইরানের অভ্যন্তরে কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়া দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানের হামলার পর ইসরায়েলি সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে পাল্টা অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে একাধিক দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলেও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্য ছিল কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি—এমন দাবি ইরানের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এদিকে ইরান সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই কারণে ইরাক ও সিরিয়াও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় আকাশসীমা সীমিত বা বন্ধ রেখেছে বলে জানা গেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, কারণ আকাশপথ ও কৌশলগত রুট সীমিত হয়ে যাওয়ায় সামরিক পরিকল্পনা জটিল হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের হামলা ছিল পূর্ববর্তী সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া, এবং ভবিষ্যতে আগ্রাসন হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি যুদ্ধবিস্তার এড়াতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে, তবে উত্তেজনা এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন