ভারতের পাঞ্জাবি সংগীত জগতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইন্দর কৌরের হত্যাকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৩ মে নিখোঁজ হওয়ার পর ছয় দিন পর, মঙ্গলবার (১৯ মে) লুধিয়ানার একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং পূর্ববর্তী সম্পর্কজনিত জটিলতাই এই হত্যার মূল কারণ হতে পারে। নিহত শিল্পীর ভাই জোটিন্দর সিং জানান, ১৩ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি ইন্দর কৌর।
পরিবারের অভিযোগ, মোগার ভালুর গ্রামের বাসিন্দা সুখবিন্দর সিং ওরফে সুখার সঙ্গে তার পূর্বে সম্পর্ক ছিল। তবে সুখবিন্দর বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে—এ তথ্য জানার পর ইন্দর কৌর তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। পরিবারের ধারণা, ওই ঘটনার জের ধরেই ১৩ মে সুখবিন্দর ও তার সহযোগীরা অস্ত্রের মুখে তাকে অপহরণ করে থাকতে পারে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা, অভিযুক্তরা কানাডা থেকে নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং হত্যাকাণ্ডের পর একই পথে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ১৫ মে জামালপুর থানায় সুখবিন্দর সিং ও তার সহযোগী করমজিৎ সিংয়ের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সামরালার সিভিল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হলে হয়তো এই মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
উল্লেখ্য, ইন্দর কৌর পাঞ্জাবি সংগীত অঙ্গনের একজন পরিচিত মুখ ছিলেন। ‘আফগান জট্টি’, ‘সোহনা লাগদা’, ‘লানেদারনি’ এবং ‘সোনে দি ওয়াং’সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় গান দিয়ে তিনি শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি পেশাদার মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার অনুসারী ছিল। তার মৃত্যুতে পাঞ্জাবি সংগীত অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে। পরিবার ও ভক্তরা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন