আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে খুলনার ডুমুরিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিশাল আকৃতির এক ষাঁড়। ‘রাজা মানিক’ নামের এই গরুটিকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের নানা এলাকার মানুষ। মালিকের দাবি, গরুটির আকার এতটাই বড় হয়ে গেছে যে বিক্রি হলে ঘরের দেয়াল ভেঙেই বাইরে বের করতে হবে। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মিনু সাহা প্রায় পাঁচ বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো যত্ন করে গরুটিকে লালন-পালন করেছেন। তার দাবি, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে এবং দেশীয় খাবার খাইয়েই বড় করা হয়েছে ‘রাজা মানিককে’। বর্তমানে গরুটির ওজন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মণ বলে জানিয়েছেন তিনি।
মিনু সাহা জানান, প্রতিদিন গরুটির খাবারের পেছনে প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বিশাল আকৃতির কারণে বাড়ির একটি নির্দিষ্ট ঘরেই রাখা হয়েছে এটিকে। গরুটির দেখাশোনার জন্য আরও একজন কর্মীও রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এক বছর বয়সে গরুটি বিক্রির চিন্তা করেছিলেন। তখন দাম উঠেছিল ৭৫ হাজার টাকা। কিন্তু প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় সেটি আর বিক্রি করেননি। তার ভাষায়, “সেদিন গরুটি বিক্রি করে দিলে আজকের ‘রাজা মানিক’কে কেউ চিনত না। কোনো ধরনের ইনজেকশন বা কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা না করে স্বাভাবিক খাবারেই বড় করেছি।”
বর্তমানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ শুধু এক নজর গরুটিকে দেখতে তার বাড়িতে আসছেন। অনেকে ছবি তুলছেন, আবার কেউ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে দিচ্ছেন। প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করা এই বিশাল ষাঁড়ের দাম হাঁকা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। তবে ভালো ক্রেতা পেলে ১২ লাখ টাকাতেও বিক্রি করতে রাজি আছেন মিনু সাহা। তিনি জানান, কোনো দালালের মাধ্যমে নয়, সরাসরি ক্রেতার কাছেই গরুটি বিক্রি করতে চান। স্থানীয়দের মতে, এবারের কোরবানির বাজারে খুলনা অঞ্চলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও আলোচিত গরুগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ‘রাজা মানিক’।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন