সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু হওয়া এক প্রেমের সম্পর্ক এখন কিশোরগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রেমিকার টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন এক চীনা তরুণ। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসবমুখর পরিবেশ। জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার চৌগাংগা ইউনিয়নের কিষ্টপুর গ্রামের তরুণী ঝুমা আক্তারের সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে ফেসবুকে পরিচয় হয় চীনের হেনান প্রদেশের শিনশিয়াং শহরের বাসিন্দা গাও ওয়েইয়ানের। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় গড়ে ওঠে গভীর ভালোবাসায়। পরে দুজন বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে গত শনিবার রাতে বাংলাদেশে আসেন গাও ওয়েইয়ান।
বাংলাদেশে পৌঁছে তিনি সরাসরি প্রেমিকার বাড়িতে যান এবং বর্তমানে ঝুমার পরিবারের সঙ্গেই অবস্থান করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে বিদেশি নাগরিকের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রোববার সকাল থেকে ঝুমাদের বাড়িতে ভিড় করতে শুরু করেন উৎসুক মানুষজন। ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের দুই মানুষের এই প্রেমের গল্প এখন পুরো এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জলাভূমিবেষ্টিত হাওড় অঞ্চলে এমন ঘটনা খুবই বিরল। তাই অনেকেই চীনা তরুণকে একনজর দেখতে ভিড় করছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে হাসিমুখে সময় কাটাতেও দেখা গেছে তাকে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঝুমা আক্তার একটি কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং জন্মসনদ অনুযায়ী তিনি প্রাপ্তবয়স্ক। এ কারণে পরিবারের সদস্যরাও সম্পর্কটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে স্থানীয়দের একটি অংশ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিয়ে সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ইটনা উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, তরুণী প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। জানা গেছে, গাও ওয়েইয়ান এবং তার বাবা দুজনেই চীনে সহকারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন