দেশে হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর আগের দিন (২৫ এপ্রিল) মৃত্যু হয়েছিল ১১ জনের। ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ২৫৯ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৪৩ জনের, আর হামের উপসর্গে মারা গেছে ২১৬ জন।
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এর হামের ওয়ার্ডে রোগীর চাপ এখন ধারণক্ষমতার অনেক বেশি। হাসপাতালের ৪২১ ও ৪২৪ নম্বর ওয়ার্ডে বেড সংকটের কারণে এক বেডে দুই থেকে তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৬০ বেডের একটি ওয়ার্ডে ৯৫ জন পর্যন্ত শিশু ভর্তি ছিল, পরে কিছু ছাড়পত্র পেলেও ৭০-৭৫ জন সবসময় ভর্তি থাকছে। অন্য ওয়ার্ডে ৩০ বেডে রোগী থাকছে ৪২ জন। অনেক শিশুর সঙ্গে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও জ্বরও দেখা দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
একাধিক অভিভাবক জানান, গ্রামের হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা বা রোগ নির্ণয়ে বিলম্বের কারণে ঢাকায় আসতে হচ্ছে। অনেক শিশু প্রথমে এলার্জি ভেবে চিকিৎসা পেলেও পরে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত বলে ধরা পড়ছে। হাসপাতালের পরিচালক বলেন, “এটি জাতীয় সংকটের মতো পরিস্থিতি, তাই সীমিত বেডে একাধিক রোগী রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। শিশুদের জন্য এটি সম্ভব হচ্ছে।”
অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিকে ‘মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করা উচিত ছিল। তাদের মতে, রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়া এবং শতাধিক মৃত্যু হওয়া সত্ত্বেও একটি সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৬০৩ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন। সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২১ হাজারের বেশি হলেও অনেকেই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, পৃথক চিকিৎসা ইউনিট স্থাপন এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন