ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সচিব পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। দিল্লি সফরে বাংলাদেশ- ভারতের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক ছাড়াও দিল্লিতে অবস্থান করে বাংলাদেশের জন্যও দায়িত্বপ্রাপ্ত ৯০ দেশের দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। আর সে বৈঠকে আসন্ন বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে ওই রাষ্ট্রদূতদের ব্রিফ করবেন পররাষ্ট্রসচিব।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে, রাজনৈতিক, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, অভিন্ন নদী, উন্নয়ন সহায়তা, প্রকল্প, কনস্যুলার, সংস্কৃতি সহযোগিতাসহ আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক এবং বহুপক্ষীয় বিষয় থাকবে আলোচ্যসুচিতে। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনেও কথা বলবেন তারা।
পাশাপাশি দিল্লিতে অবস্থান করে বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত যে ৯০ দেশের দূতাবাস রয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দূতাবাসগুলোকে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হবে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও জাতীয় নির্বাচন, বিশেষ করে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে জানানো হবে। এ তথ্য পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন নিজেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন বুধবার (২৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দিল্লি সফর প্রসঙ্গে তিনি জানান, সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে ভারতের সব জানা রয়েছে। ৯০ দূতাবাসের যাদের দূতাবাস বাংলাদেশে নেই, তাদের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়টি তুলে ধরা হবে দিল্লি সফরে।
ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আর জানিয়েছিলেন, নির্বাচন সামনে রয়েছে, এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কিছু জানার থাকলে তা অবহিত করা হবে। তবে এ সফরে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা করে কোনো বার্তা নিয়ে যাওয়ার বিষয় নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেছিলেন, সামনে ভারতেরও নির্বাচন, বাংলাদেশেরও নির্বাচন। নির্বাচন- পূর্ববর্তী ও পরবর্তী দুই দেশের সম্পর্ক যেন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, নির্বাচন যেন এখানে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, তা সচিব পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনায় আসবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে এটা দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে কূটনীতিক পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগেও ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে ঢাকা-দিল্লির পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন