সফর বা ভ্রমণের সময় ইবাদত পালনে ইসলাম ধর্মে রয়েছে বিশেষ সহজীকরণ ব্যবস্থা, যা ‘কসর’ নামে পরিচিত। কোনো ব্যক্তি যখন নিজ স্থায়ী আবাসস্থল থেকে প্রায় ৪৮ মাইল বা ৭৮ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন এবং নিজ এলাকার সীমানা অতিক্রম করেন, তখন তিনি শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসাফির হিসেবে গণ্য হন। পবিত্র আল-কোরআন-এ এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘তোমরা যখন পৃথিবীতে ভ্রমণ করবে, তখন নামাজ সংক্ষিপ্ত করায় তোমাদের কোনো দোষ নেই’ (সুরা নিসা: ১০)। কসর মূলত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য একটি সহজ ও কল্যাণকর বিধান।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, একজন মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজ—যেমন জোহর, আসর ও এশা—দুই রাকাত করে আদায় করবেন। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, স্বাভাবিক অবস্থায় নামাজ চার রাকাত এবং সফরের সময় তা দুই রাকাত নির্ধারণ করা হয়েছে। মুসাফির ব্যক্তি যদি একাকী নামাজ আদায় করেন বা অন্য কোনো মুসাফির ইমামের পেছনে নামাজ পড়েন, তবে কসর করা তাঁর জন্য আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে পূর্ণ চার রাকাত আদায় করা শরিয়তসম্মত নয়।
তবে কোনো মুসাফির যদি স্থানীয় বা মুকিম ইমামের পেছনে জামাতে শরিক হন, তাহলে তাঁকে ইমামের অনুসরণে পূর্ণ চার রাকাত নামাজই আদায় করতে হবে। এ বিষয়ে সাহাবিদের বর্ণনাতেও একই নির্দেশনা পাওয়া যায়। সফর অবস্থায় সুন্নত নামাজের ক্ষেত্রেও কিছুটা ছাড় রয়েছে। বিশেষ তাড়াহুড়ো বা চলন্ত অবস্থায় থাকলে ফজরের সুন্নত ছাড়া অন্যান্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা আদায় না করলেও চলবে। তবে যাত্রাবিরতিতে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলে সুন্নত নামাজ আদায় করা উত্তম।
মুসাফিরের জন্য এই বিধান মূলত সফরের কষ্ট ও ধকল কমানোর উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত হয়েছে। ইসলামি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থগুলোতেও এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। সফরকালীন এই সুযোগকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া সদকা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তা গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছেন। তাই নির্ধারিত দূরত্বে ভ্রমণ করলে একজন মুসাফিরের জন্য কসর পালন করাই উত্তম ও শরিয়তসম্মত।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন