ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
৩০ থেকে ৭০এর দশকেও সুস্থ রাখতে পারে এই অভ্যাস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ইন্দোনেশিয়ার ৮ বিমানবন্দর বন্ধ, আটকা ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী মিয়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫ লংমার্চে পরিকল্পিতভাবে ঝামেলার প্ল্যান ছিল জামায়াতের: রাশেদ খাঁন বাবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর, আবেগঘন বার্তা দিলেন কন্যা বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি, ভিন্ন চিত্র পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে দ্রুত বিয়ে হওয়ার জন্য ১১টি করণীয় আমল সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির ওরিয়েন্টেশন ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত কলম্বিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলা, নিহত ৩ '৪৩৪১ হাজিকে ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফেরত দেবে সরকার'

ব্রিটিশদের ১০৯ বছর আগে ধার দেওয়া টাকা এখন সুদসহ ফেরত চায় ভারতীয় পরিবার

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়া ৩৫ হাজার টাকা ঋণ ১০৯ বছর পর সুদসহ ফেরত চেয়েছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের
  • আপলোড সময় : ১৫ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১১:৫৫ সময়
  • আপডেট সময় : ১৫ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১১:৫৫ সময়
ব্রিটিশদের ১০৯ বছর আগে ধার দেওয়া টাকা এখন সুদসহ ফেরত চায় ভারতীয় পরিবার

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়া ৩৫ হাজার টাকা ঋণ ১০৯ বছর পর সুদসহ ফেরত চেয়েছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের রুঠিয়া পরিবার। পরিবারের দাবি, ১৯১৭ সালের ৪ জুন ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়া ওই ঋণের একটি পুরোনো সনদ এখনো তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। পরিবারের দাবি সামনে আসার পর বিষয়টি যাচাই করতে যুক্তরাজ্যের ঋণ ব্যবস্থাপনা দপ্তর তাদের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে পাঠিয়েছে। তবে নথি চাওয়ার অর্থ এই নয় যে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পরিবারের দাবি স্বীকার করেছে। বিষয়টি এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।


পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশ বাহিনীর পক্ষে লড়াই করা ভারতীয় সৈন্যদের ভরণপোষণের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছিল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। সেই সময় ব্যবসায়ী জুম্মালাল রুঠিয়া ভোপাল এজেন্সিতে কর্মরত এক ব্রিটিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারকে ৩৫ হাজার টাকা দেন। সম্প্রতি পুরোনো কাগজপত্র ঘাঁটতে গিয়ে পরিবারটি ওই ঋণের নথি খুঁজে পায়। এরপর একজন আইনজীবীর মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কয়েক মাস পর যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জবাব আসে এবং নথি যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হয়।


পরিবারের সদস্য গৌতম রুঠিয়া জানান, কর্তৃপক্ষ জানতে চেয়েছে—১৯১৭ সালে যে পরিবার অর্থ দিয়েছিল, বর্তমান দাবিদার পরিবারটি একই পরিবারের উত্তরসূরি কি না। এজন্য বংশতালিকা, পুরোনো সনদ, পারিবারিক নথি এবং ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে পরিবারটি শুধু মূল ৩৫ হাজার টাকা ফেরত চায় না। তাদের পরিকল্পনা হলো মূল অর্থের সঙ্গে সুদ, চক্রবৃদ্ধি সুদ, সংশ্লিষ্ট ব্যয় এবং বর্তমান সময়ের মূল্যমান বিবেচনায় নিয়ে পুরো অর্থের দাবি তোলা।


অর্থাৎ ১০৯ বছর আগে দেওয়া ৩৫ হাজার টাকা এখন সুদে-আসলে কত দাঁড়ায়, সেটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। পরিবারের দাবি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল। ২০১৫ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ঋণ পরিশোধও করা হয়। তবে সেই পরিশোধের মধ্যে জুম্মালাল রুঠিয়ার দেওয়া ৩৫ হাজার টাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না, তার কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।


জুম্মালাল রুঠিয়া ছিলেন সে সময়ের একজন বিত্তশালী ব্যবসায়ী। পরিবারের দাবি, তাঁর বড় আকারের গোশালা ছিল এবং তিনি আফিম চাষের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৩৭ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলেও পরিবারের দাবি, ওই ঋণের অর্থ আর ফেরত দেওয়া হয়নি। এখন পুরোনো নথি যাচাই করে ব্রিটিশ সরকারের নিজস্ব রেকর্ডের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে। দাবি প্রমাণিত হলে পরবর্তী সময়ে আইনি পদক্ষেপ কিংবা সালিসের পথেও যেতে পারে রুঠিয়া পরিবার।


তবে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি শুধু অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি নয়। তাদের ভাষ্য, এটি পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য ও একটি শতবর্ষী পারিবারিক দাবির স্বীকৃতির প্রশ্ন। ১০৯ বছর আগের সেই ঋণের নথি সত্যিই ব্রিটিশ সরকারের বকেয়া অর্থের প্রমাণ কি না, আর প্রমাণিত হলে ৩৫ হাজার টাকা সুদে-আসলে বর্তমান সময়ে কত দাঁড়াবে—এখন সেই উত্তরই খুঁজছে দুই পক্ষ।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রেলে নিরাপত্তার চেয়ে টিকিট তল্লাশিতেই বেশি নজর?

রেলে নিরাপত্তার চেয়ে টিকিট তল্লাশিতেই বেশি নজর?