ভারত সীমান্তঘেঁষা ফেনীর পরশুরামের বাউরপাথর গ্রামের বাসিন্দা মৃদুল রাণী—মুক্তিযুদ্ধের সময় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় হারান নিজের একটি পা। অথচ স্বাধীনতার এত বছর পরও তিনি পাননি কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ চলাকালে ১৪ আগস্ট বিলোনিয়ার আমজাদনগরে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি শক্ত ঘাঁটি ছিল। সে সময় কিশোরী মৃদুল রাণী তার বাবার সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না করে দিতেন। সেদিন সকালে বাড়ি থেকে ঘাঁটির উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথে পাকিস্তানি বাহিনীর পুঁতে রাখা মাইনের ওপর পা পড়লে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার ডান পায়ের বড় একটি অংশ কোমর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাকে ভারতের বিলোনিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন তিনি।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তার জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তর ও জনপ্রতিনিধির কাছে ঘুরেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি তিনি। স্বামী আনন্দ রায় অসুস্থ, আর বাড়ির পাশে ছোট একটি চায়ের দোকান চালিয়ে অল্প আয়ে চলে তাদের সংসার। ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল নানা কষ্টের গল্প। মৃদুল রাণী জানান, পা হারানোর পর দীর্ঘদিন কেউ তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়নি। অবশেষে ৪১ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহায়তার আশায় বহুবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে আবু নাছের চৌধুরী, ফেনী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার, বলেন—মৃদুল রাণীর বিষয়টি তার জানা আছে। তবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রামাণ্য নথি থাকা জরুরি। আহত হওয়ার সময়কার চিকিৎসা সনদ বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র থাকলে যাচাই করে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা একজন মানুষের এই দীর্ঘ অবহেলা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—স্বাধীনতার এত বছর পরও কেন অনেকে রয়ে যাচ্ছেন স্বীকৃতির বাইরে?
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন