দেশে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আজ রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। যানবাহনের ধরন অনুযায়ী তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এই নতুন ব্যবস্থার বিষয়ে আগে থেকেই পেট্রোল পাম্পগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দৈনিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লিটার। এছাড়া এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসের জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরিবহন খাতেও ডিজেল সরবরাহে একই ধরনের রেশনিং কার্যকর করা হয়েছে। স্থানীয় রুটের বাস বা পিকআপ ভ্যান প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনারবাহী ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা বিবেচনায় আগাম সতর্কতা হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি তেল বিক্রির এই নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে আজ থেকেই সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথাও জানিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আগামী ৯ মার্চ আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মূলত কৃত্রিম সংকট ও পাম্পগুলোর অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সারি ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে পাম্পগুলো যাতে নির্ধারিত সীমার বেশি তেল বিক্রি না করে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন