ঢাকা | |

প্রকৃতির ডাকে ঝোপখালীতে অতিথি পাখির উৎসব

বরগুনার বেতাগী উপজেলার ঝোপখালী জলাভূমি প্রতি শীতেই যেন নতুন রূপে জেগে ওঠে। বর্ষায় নিস্তব্ধ ও নির্জন এই জলাভূমি
  • আপলোড সময় : ৫ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১২:১১ সময়
  • আপডেট সময় : ৫ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১২:১১ সময়
প্রকৃতির ডাকে ঝোপখালীতে অতিথি পাখির উৎসব

বরগুনার বেতাগী উপজেলার ঝোপখালী জলাভূমি প্রতি শীতেই যেন নতুন রূপে জেগে ওঠে। বর্ষায় নিস্তব্ধ ও নির্জন এই জলাভূমি শীতকাল আসতেই হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। দূরদেশ থেকে হাজার মাইল উড়ে আসা পরিযায়ী পাখিরা তখন ভিড় জমায় খাল-বিল আর জলাভূমির বুকে। সাইবেরিয়া, মধ্য এশিয়া ও হিমালয় অঞ্চলের তীব্র শীত থেকে বাঁচতে প্রতি বছর অসংখ্য পাখি আশ্রয় নেয় ঝোপখালীতে। বর্তমানে এখানে দেখা মিলছে হাঁস, পানকৌড়ি, বালিহাঁস, চখাচখি, ডাহুকসহ নানা প্রজাতির অতিথি পাখির।


ভোরের আলো ফুটতেই চারপাশ ভরে ওঠে ডানার ঝাপটানি আর পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে। প্রকৃতির এই অপূর্ব দৃশ্য যেন প্রতিদিনই এক নতুন উৎসবের আবহ তৈরি করে। স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা বলেন, শীত এলেই ঝোপখালী যেন অন্যরকম হয়ে ওঠে। তার ভাষায়, দক্ষিণাঞ্চলের অন্য কোথাও এমন পাখির সমাগম দেখা যায় না। সকালে ঘুম ভাঙে পাখির ডাক শুনে—এটাই তাদের কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয়। দূরদূরান্ত থেকে অনেক দর্শনার্থীও এই দৃশ্য দেখতে ছুটে আসেন। দর্শনার্থী আফজাল হোসেন বলেন, একসঙ্গে অসংখ্য পাখির আকাশে ওড়াউড়ির দৃশ্য চোখে পড়লে মনে হয় প্রকৃতি যেন তার সব সৌন্দর্য এখানে ছড়িয়ে দিয়েছে।


আরেক দর্শনার্থী মনির হোসেন জানান, বছরের অন্য সময়েও কিছু পাখি দেখা গেলেও শীতকালেই সবচেয়ে বেশি অতিথি পাখির সমাগম ঘটে। সকাল কিংবা বিকেলে জলাভূমির পাশে দাঁড়িয়ে পাখিদের চলাফেরা দেখতে দেখতে কখন যে সময় কেটে যায়, তা বোঝা যায় না। স্থানীয় মাঝিরা জানান, খালের ওপর দিয়ে ট্রলার চালানোর সময় চারপাশে অসংখ্য পাখি দেখা যায়। কখনো তারা জলের ওপর ভেসে থাকে, আবার হঠাৎ দলে দলে আকাশে উড়ে যায়—যা সত্যিই মনমুগ্ধকর দৃশ্য।


পরিবেশকর্মী ও পর্যটন উদ্যোক্তা আরিফ রহমান মনে করেন, ঝোপখালী বরগুনার পর্যটনের জন্য একটি বড় সম্ভাবনা হয়ে উঠতে পারে। তবে কিছু অসাধু শিকারির কারণে প্রতিবছর অনেক পাখি মারা যাচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে এই জলাভূমিকে সংরক্ষণ করা সম্ভব। বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস জানান, ঝোপখালীকে পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে জলাভূমির জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও অবৈধ পাখি শিকার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শীতের দিনে পাখির কলতানে জেগে ওঠা ঝোপখালী এখন শুধু একটি জলাভূমি নয়, বরং প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতার নাম।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
২৩ জুন উপলক্ষে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

২৩ জুন উপলক্ষে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর