বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে ঘিরে ঘটে যাওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত গণহয়রানির ঘটনার পর নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন গভর্নরের উপদেষ্টা মো. আহসান উল্লাহ। বুধবার (৪ মার্চ) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে গভর্নরের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকে সংঘটিত একটি মব পরিস্থিতি তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তোলে। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি অনুভব করায় সেদিন বিকেলেই তিনি অফিসিয়াল গাড়িতে করে মিরপুর ডিওএইচএসে নিজের বাসায় ফিরে যেতে বাধ্য হন।
চিঠিতে তিনি জানান, ওই ঘটনার পর থেকে তিনি আর স্বাভাবিকভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। এমন পরিবেশে দায়িত্ব পালন করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন। আহসান উল্লাহ আরও জানান, তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ আগে ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তির ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে গণনা করে ৩০ দিনের নোটিশে পদত্যাগ কার্যকর করার আবেদন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ওই নোটিশকে চূড়ান্ত পদত্যাগপত্র হিসেবে গ্রহণ করার অনুরোধও জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকে এক বছর এক মাস ১৮ দিন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। পদত্যাগপত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা থেকে পাওয়া সহযোগিতা ও সম্মানের জন্য ধন্যবাদও জানান। তবে তিনি উল্লেখ করেন, একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মব সংস্কৃতির মতো ঘটনা কাজের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং এমন পরিস্থিতিতে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে সাম্প্রতিক সময়ের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই এই পদত্যাগ নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও গভর্নরের কার্যালয় থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই পদে শূন্যতা তৈরি হলে তা ব্যাংকিং খাতের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন