রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকার ওয়েস্ট ধানমণ্ডি হাউজিং এ একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় পাঁচজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে বসিলা হাউজিং সিটি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদেরকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) কাজী রফিক।
আটককৃতরা হলো- বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বি (২৮) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগর মোহাম্মদপুর থানার যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুর রহমান মানিক, হাবিবুর রহমান ফরহাদ ও মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় সমন্বয়ক পরিচয়ে সেফ হাসপাতাল নামের একটি হাসপাতালে বাচ্চা মারা যাওয়া নিয়ে একটি চক্র চাঁদা দাবি করছিল। তারা কয়েকজন এসে হাসপাতালের মালিকের কাছে চাঁদা চেয়ে মব তৈরি করে। হাসপাতালের মালিক সেনাবাহিনীকে ফোন করলে তারা গিয়ে পাঁচজনকে আটক করে। পরে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করেন হাসপাতালের মালিক।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম রাব্বি মোহাম্মদপুর থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলার চার নম্বর আসামি। দীর্ঘদিন তিনি পলাতক ছিলেন। সাইফুল ইসলাম রাব্বি মোহাম্মদপুর থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ছিলেন। এরপর তাকে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক বলেন, চাঁদাবাজির ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করে আমদের কাছে সেনাবাহিনী হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দায়ে একজন হাসপাতাল মালিক মামলার আবেদন করেছেন। আমরা সেটা যাচাই করে চাঁদাবাজির মামলা নেবো। আটকদের মধ্যে রাব্বি নামে একজনের বিরুদ্ধে আমাদের থানায় আগের চাঁদাবাজির মামলা আছে।
এর আগে গত ১৯ মে রাতে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে হাক্কানী পাবলিশার্সের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার বাসা ঘেরাও করে উত্তেজিত জনতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এরপর জোর করে বাসার ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তারা। ৯৯৯-এ কল করে পরিস্থিতি জানিয়ে অভিযোগ করার পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতারে চাপ ও পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায়ও জড়িয়ে পড়েন উপস্থিত কয়েকজন। এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মোহাম্মদপুর থানার সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বিসহ কয়েকজনকে হেফাজতে নেয় ধানমন্ডি থানা পুলিশ। পরদিন ধানমন্ডি থানায় উপস্থিত হয়ে বৈষম্যবিরোধী নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ মুচলেকা দিয়ে সাইফুল ইসলাম রাব্বিসহ অন্যদের ছাড়িয়ে আনেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন