মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়াকে দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা নিয়ে অন্য কারও অস্বস্তির কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নিজের যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়। দেশ ও জাতির প্রয়োজন এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে এতে অন্য কারও অস্বস্তি বোধ করার প্রয়োজন নেই। সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দিতে পারে—এমন আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতও উঠে এসেছে।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় তিন দেশের যেকোনো একটি দেশ সামরিক হামলার শিকার হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ১৯ মার্চ সৌদি আরবের রিয়াদে ইসলামি সম্মেলনের সময় তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো, জোটভুক্ত কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে। পাশাপাশি তিন দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। বাংলাদেশের এই জোটে যুক্ত হওয়ার আগ্রহের কথাও সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বিশ্লেষকদের মতে, মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশ যুক্ত হলে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি সামরিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ ও সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন