ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
ইরান ‘মার্কিন স্থল অভিযান’-এর জন্য প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে, কৌশলে বড় পরিবর্তনের আভাস শাবিপ্রবির ১০ তলা ভবন নির্মাণে মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ এসএসসির খাতা পুনঃমূল্যায়নে ১২ লাখের বেশি আবেদন, আসছে নীতিমালা হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের, বাস্তবে কি সম্ভব? নেইমারের সঙ্গে হাত মেলালেন না সেই ‘পুরোনো শত্রু’ মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট সৌরবিদ্যুতে ব্যাটারি চার্জ হলে রেজিস্ট্রেশন পাবে রিকশা: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এবার আসামি হচ্ছেন ৩ সাংবাদিক বাংলাদেশের কাছে হারের পর বড় শাস্তির শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া সরকারের ১৮০ দিনের হানিমুন পিরিয়ড শেষ করেছি: শিক্ষামন্ত্রী

শাবিপ্রবির ১০ তলা ভবন নির্মাণে মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) নির্মাণাধীন ১০ তলা প্রশাসনিক ভবনে মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্ট ও তুলনামূলক কম মূল্যের রড
  • আপলোড সময় : ১৮ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১০:০ সময়
  • আপডেট সময় : ১৮ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১০:০ সময়
শাবিপ্রবির ১০ তলা ভবন নির্মাণে মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) নির্মাণাধীন ১০ তলা প্রশাসনিক ভবনে মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্ট ও তুলনামূলক কম মূল্যের রড ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দেশ উন্নয়ন করপোরেশন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশ উন্নয়ন করপোরেশনের সঙ্গে ৫৩ কোটি টাকার চুক্তিতে ১০ তলা প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও একটি ১০ তলা আবাসিক হল নির্মাণ করছে।

সরেজমিনে প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণসামগ্রী রাখার স্থানে বেশ কয়েকটি মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্টের বস্তা দেখা যায়। এসব বস্তার কোনো কোনোটির মেয়াদ গত বছরের এপ্রিল, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরেই শেষ হয়েছে। আবার কিছু সিমেন্টের মেয়াদ চলতি বছরের জানুয়ারিতে শেষ হলেও সেগুলো নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি জুলাইয়ে উৎপাদিত সিমেন্টও সেখানে ব্যবহার করতে দেখা যায়।

নির্মাণকাজে এসএএস (শফিউল আলম স্টিল) কোম্পানির রড ব্যবহারের বিষয়টিও নজরে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশেষজ্ঞরা জানান, ভবন নির্মাণে রডের মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দাবি, বুয়েট বা শাবিপ্রবিসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ সাধারণত ভালো মান ও নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের রড ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এদিকে নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, ছাদের কয়েকটি স্থানে ঢালাইয়ের পরও রড উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভবন নির্মাণে নিম্নমানের পাথর ও বালুও ব্যবহার করা হচ্ছে।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়েও রয়েছে সংশয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, আর্থিক সংকটের কারণে এতদিন নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলেছে। ইউজিসির নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটির আনুমানিক ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

শাবিপ্রবির সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এইচএমএ মাহজুজ বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্ট ব্যবহার করলে কংক্রিটের কাঙ্ক্ষিত শক্তি পাওয়া যায় না। অনেক সময় মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্ট পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়। ফলে তা ভালোভাবে মিশ্রিত হয় না এবং কংক্রিটের গুণগত মান ও শক্তি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, সিমেন্ট দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করলেও এর গুণগত মান কমে যেতে পারে। সাধারণভাবে দুই মাসের বেশি সময় সংরক্ষিত সিমেন্ট ব্যবহার না করাই ভালো।

রডের মান নিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষার মাধ্যমে যদি পিডব্লিউডির নির্ধারিত ৬০ কেএসআই মান নিশ্চিত হয়, তাহলে রড ব্যবহারে আপত্তির যৌক্তিক কারণ নেই। তবে সব সময় ভালো ব্র্যান্ড ও মানসম্মত রড ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

পাথরের বিষয়ে অধ্যাপক মাহজুজ বলেন, কংক্রিটে পাথরের গ্রেডেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোট থেকে বড় বিভিন্ন আকারের পাথর নির্দিষ্ট অনুপাতে থাকতে হয়। একই আকারের পাথর ব্যবহার করা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৯ মিলিমিটার এবং সর্বনিম্ন ১০ মিলিমিটার আকারের পাথর থাকা প্রয়োজন।

ছাদে রড উন্মুক্ত থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। রড উন্মুক্ত থাকলে এতে মরিচা ধরতে পারে এবং আশপাশের কংক্রিটে চাপ সৃষ্টি হয়ে ফাটল দেখা দিতে পারে। ছাদের ঢালাইয়ে রডের ওপর অন্তত ০.৬ থেকে ০.৮ ইঞ্চি কংক্রিট কভার থাকা উচিত। আর কলাম ও বিমের ক্ষেত্রে সাধারণত ১.৫ থেকে ২ ইঞ্চি কংক্রিট কভার প্রয়োজন, যাতে রড সরাসরি বাতাস ও আর্দ্রতার সংস্পর্শে না আসে।

অভিযোগ অস্বীকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের

অভিযোগের বিষয়ে দেশ উন্নয়ন করপোরেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম বলেন, “মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্ট ব্যবহারের প্রশ্নই আসে না। আমরা রানিং লাফার্জ সিমেন্ট ব্যবহার করছি। পুরোনো সিমেন্ট নিচে রাখি, তার ওপর নতুন সিমেন্ট রাখি।”

তবে নির্মাণশ্রমিকদের দাবি, পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্টই নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

রড ব্যবহারের বিষয়ে আরিফুল ইসলাম বলেন, “এটি পিডব্লিউডির তালিকাভুক্ত রড। তাই আমরা ব্যবহার করতে পারি। বাংলাদেশের কোনো ঠিকাদারই বিএসআরএম বা কেএসআরএম রড ব্যবহার করে না। আমার পক্ষে সেটি ব্যবহার করা সম্ভব নয়।”

ছাদে রড উন্মুক্ত থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ছাদের মধ্যে রড বের হয়ে থাকার কথা নয়। মিস্ত্রির অসাবধানতার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে জানতে চেয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।

প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার জয়নাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, বস্তায় সিমেন্টের মেয়াদ লেখা থাকে না। এখানে মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্টও ব্যবহার করা হয় না। তারা ভালো মানের রড ব্যবহারের চেষ্টা করেন।

তবে তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাভের বিষয়টি বিবেচনা করে সব সময় ভালো ব্র্যান্ডের রড ব্যবহার করে না। “এখানে আমার কোনো কমিশন নেই,” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য মেলেনি

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী জয়নাল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলামের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ডিপিপির অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী এ প্রকল্পের বিষয়ে মন্তব্য করার দায়িত্ব উপাচার্যের।

এদিকে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ এই ভবনে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান, মেয়াদ এবং প্রকল্পের অগ্রগতি যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি ভবনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান কঠোরভাবে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডাক্তার থেকে দূরে থাকতে প্রতিদিন এক কাপ ‘গ্রিন টি’

ডাক্তার থেকে দূরে থাকতে প্রতিদিন এক কাপ ‘গ্রিন টি’